ভারতীয় শিকড়ের ‘ভিনদেশি’ একাদশ

ভারতীয় ক্রিকেটে এসেছেন অনেক বড় তারকা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্রিকেটীয় সংস্করণে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন তাঁরা। শুধু মাত্র ভারতীয় ক্রিকেটে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক ক্রিকেটারদের শিকড় হলো ভারত। আর সেই রকম অনেক ক্রিকেটার সফল হয়েছেন ক্রিকেট ময়দানে।

সারাবিশ্বের যে দেশেই যান না কেন, আপনি ভারতীয়দের দেখা পাবেন। এই এইসূত্রেই সারা বিশ্বের ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় শিকড়। আর সেই ভারতীয় শিকড়ধারীরা অনেক জায়গায় সাফল্য এনে দিয়েছেন। ক্রিকেটেও এর ব্যতিক্রম ঘটে নাই।

ভারতীয় ক্রিকেটে এসেছেন অনেক বড় তারকা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্রিকেটীয় সংস্করণে একের পর এক সাফল্য এনে দিয়েছেন তাঁরা। শুধু মাত্র ভারতীয় ক্রিকেটে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক ক্রিকেটারদের শিকড় হলো ভারত। আর সেই রকম অনেক ক্রিকেটার সফল হয়েছেন ক্রিকেট ময়দানে।

এইসব ক্রিকেটার শুধু সফল হননি, তারা হয়েছেন বড় তারকা। এমন সব তারকাদের নিয়েই গঠন করা হয়েছে আজকের এই একাদশ। তবে, একটা ব্যাপার ঠিক যে ভারতীয় বংশদ্ভুত এই ক্রিকেটারদের তালিকাটা বেশ লম্বা – তাই অনেককেই এখানে ঠাই দেওয়া সম্ভব হয়নি।

  • হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা)

হাশিম আমলা দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। হাশিম আমলাকে বিবেচনা করা হয় অন্যতম সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর পূর্ব পুরুষরা দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন ভারতের গুজরাট থেকে।

  • ড্যারেন গঙ্গা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ড্যারেন গঙ্গা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছেন ৪৮ টি টেস্ট। এই ৪৮ টেস্টে রান করেছিলেন ২১৬০ রান। সাথে ছিলো নয়টি অর্ধ শতক এবং তিনটি শতক। গঙ্গা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নেতৃত্ব দেননি। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভুত।

  • নাসের হুসেইন (ইংল্যান্ড): অধিনায়ক

নাসের হুসেইন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ধারাভাষ্যকার। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্ক দিয়ে এই দলের অধিনায়ক হবার যোগ্যতা রাখেন তিনি।

  • রামনরেশ সারওয়ান (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ব্রায়ান লারার যুগে তিনি অন্যতম বড় ব্যাটিং ভরসার নাম ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের। টেস্ট কিংবা ওয়ানডে – দুই ফরম্যাটেই ৪০-এর ওপর গড় নিয়ে ব্যাট করেছেন। তাঁর পরিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বীপপুঞ্জে পাড়ি জমিয়েছিলো কাজের সন্ধানে। পরবর্তীতে সেখানেই তারা বসবাস শুরু করেন।

  • শিবনারায়ন চন্দরপল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ব্যাটিং স্ট্যান্টের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তিনি। ব্রায়ান লারার পর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজে এত বড় ব্যাটসম্যান আর আসেনি। তাঁর আদি নিবাস ছিল ভারতে। পূর্ব পুরুষ জীবিকা সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিল ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে। পরে সেখানেই স্থায়ী হয়ে যায় তাঁরা।

  • সুনীল নারাইন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সুনীল নারাইন ক্যারিবিয়ান হলেও তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভুত। একাধিকবার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর বাবা ছিলেন সুনীল গাভাস্কারের অনেক বড় ভক্ত। তিনি চাইতেন তাঁর ছেলেও যেন ক্রিকেট খেলে। সুনীল গাভাস্কারের অনেক বর ভক্ত হবার কারণে তাঁর নাম রাখা হয়েছিলো সুনীল নারাইন।

  • রবি বোপারা (ইংল্যান্ড)

রবি বোপারার পরিবারের আদি বাসস্থান ছিলো ভারতের পাঞ্জাবে। রবি বোপারার জন্ম এবং বেড়ে উঠা ইংল্যান্ডের মাটিতে। ইংল্যান্ডকে ক্রিকেটের সকল সংস্করনেই দেখা গিয়েছিলো। এখন জাতীয় দলে না খেললেও কাউন্টি ক্রিকেটে নিয়মিত দেখা যায় রবি বোপারাকে।

  • রবি রামপাল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

রবি রামপাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তার সময়ের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন। তাঁর পরিবার অনেক দিন আগেই ভারত ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বীপে। সেখানেই রবি রামপালের বেড়ে উঠা এবং ক্রিকেটে হাতে খড়ি। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়েই মাঠ মাতিয়েছেন।

  • মন্টি পানেসার (ইংল্যান্ড)

মন্টি প্যানেসার বিভিন্ন সময়ে বলে এসেছেন তাঁর পরিবার ব্রিটিশ-পাঞ্জাবী শিখ পরিবার। তিনি হিন্দি এবং পাঞ্জাবী ভাষাও বোঝেন। ইংল্যান্ড এবং ভারতের মধ্যকার টেস্ট চলাকালীন সময়ে সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি জানান, তিনি যখন হিন্দিতে দলের ক্রিকেটারদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন মন্টি প্যানেসার তা বুঝতে পারেন। কিন্তু বোঝার পরও না বোঝার ভান করে থাকতেন মন্টি প্যানেসার।

  • মুত্তিয়া মুরালিধরন (শ্রীলঙ্কা)

মুত্তিয়া মুরালিধরন শুধুমাত্র শ্রীলংকার নন, বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার। টেস্টে ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার। মুরালিধরনের দাদা ভারতের তামিলনাডু প্রদেশ থেকে গিয়ে শ্রীলঙ্কায় স্থায়ী হন। মুত্তিয়া মুরালিধরণ স্ত্রী ভারতীয় নাগরিক।

  • স্টুয়ার্ট ক্লার্ক (অস্ট্রেলিয়া)

অনেকে এই তালিকায় অস্ট্রেলিয়ান পেসার স্টুয়ার্ট ক্লার্কে নাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে পারেন। নাম শুনে মনে হতে পারে তাঁর পরিবার ইউরোপিয়ান কোনো দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে। কিন্তু না, স্টুয়ার্ট ক্লার্কের বাবা ভারতের চেন্নাই থেকে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...