বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের আয়োজনের মূল্য উদ্দেশ্য ছিল কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। তিনটি প্রশ্ন ছিল টুর্নামেন্টের শুরুতে, আরও তিনটি যুক্ত হয়েছে টুর্নামেন্টের মাঝপথে কিংবা শেষ দিকে। ট্যাকটিকাল ব্রেকডাউনে সেই মোট ছয়টি প্রশ্নকে পাঁচটি প্রশ্নে নামিয়ে এনে খোঁজা হবে উত্তর।
প্রশ্ন নম্বর এক: লিটন দাস কি ওয়ানডের জন্য উপযুক্ত?

উত্তর: আপাতদৃষ্টিতে সাদা/কালোতে লিটন দাসের ওয়ানডে কার্যকারিতাকে নির্ধারণ করা দুষ্কর। বিসিএলে এক ম্যাচে তিনি ম্যাচ জেতানো ফিফটি হাঁকিয়েছেন। একটা ম্যাচে আবার শূন্যরানে আউটও হয়েছেন। অতএব মোটা দাগে লিটন উপযুক্ত নাকি উপযুক্ত নয়- সে উত্তর বলে দেওয়া যাচ্ছে না। তার ক্যালিবার বিবেচনায় তাকে নিশ্চয়ই আরেকটু সুযোগ দেওয়া হতে পারে দিনশেষে।
প্রশ্ন নম্বর দুই: ওয়ানডেতে অধিনায়ক ও খেলোয়াড় হিসেবে মেহেদী মিরাজ কতটুকু কার্যকর?

উত্তর: এখানে চাইলে মিরাজকে দশে দেওয়া যায় পাঁচ। প্রায় অর্ধেক নম্বর উধাও হয়েছে তার খেলোয়াড় হিসেবে করা পারফরমেন্সের কারণে। সেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু মিরাজের ব্যর্থতার ফিরিস্তি। বিসিএলেও তিনি ব্যর্থ। দুই ম্যাচে চার রান করেছেন, উইকেট পেয়েছেন দুইটি। দলকে ফাইনালেও তুলতে পারেননি। যে ধারায় তিনি আছেন- তাতে তার বিশ্রাম অতীব জরুরি।
প্রশ্ন নম্বর তিন: ব্যাটিং অর্ডারের পাঁচ-ছয় নম্বরের সমস্যার সমাধান কি হলো?

উত্তর: একটা বৈপরীত্যের ছবি অবশ্য ফুটে উঠেছে। জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান- এরা প্রত্যেকেই ফিনিশার। বিসিএল ওয়ানডেতে তারা জাকের এক ম্যাচে করেছেন পাঁচ রান, অন্যদিকে শামীম দুই ম্যাচে করেছেন ১২ রান।
অন্যদিকে জাত মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে আলো কেড়েছেন আকবর আলী। প্রথম ম্যাচেই শতক হাঁকিয়েছেন। এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুব ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের বাসনা ব্যক্ত করেছেন। এরা দুইজন সমাধান হওয়ার যোগ্য। এখন নির্বাচক প্যানেল কি ভাবছে সেটা বলা মুশকিল।
প্রশ্ন নম্বর চার: রিপন মণ্ডল কি সুযোগ পাওয়ার দাবিদার?

উত্তর: টুর্নামেন্টের আগে-পরে এই প্রশ্নটাই ঘুরে ফিরে এসেছে। ধারাবাহিকভাবে রিপন মণ্ডল নিজেকে প্রমাণ করে আসছেন ধারাবাহিকভাবে। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্স, বিপিএল, অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ ও এরপর বিসিএল- সবখানেই রিপন উইকেট শিকার ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এখন সুযোগ দেওয়া না হলে বরং সেটা হবে অন্যায়। তিনি অবশ্যই সুযোগের যোগ্য দাবিদার।
প্রশ্ন নম্বর পাঁচ: মিডল ওভারে উইকেট নেবে কে?

উত্তর: বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে এখন রিশাদ হোসেনের উপর অনেক বড় দায়িত্ব। মিডল ওভারে তিনি একাই রয়েছেন- উইকেট শিকারি হিসেবে। এটা এক দুশ্চিন্তার কারণ। তার সাথে যুগলবন্দী করার মত কেউ নেই। সেই অভাব পূরণের একটা বার্তা দিয়েছেন নাহিদ রানা। মিডল ওভারে যখন স্থবির হয়ে যায় বোলারদের আগ্রাসন। তখনই গতির ঝড় তুলে উইকেট বাগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন নাহিদ।











