ভিনিসিয়াস, দ্য বেস্ট!

বিশ্বকাপ ব্রাজিল জিততে পারছে না ২২ বছর হয়ে গেছে। দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ। নিশ্চয়ই ভিনি-রাফিনহারা কোনো ঋণ রেখে রাতে ঘুমাতে চাইবেন না!

সাও পাওলোর ঘিঞ্জি গলিতে রুগ্ন এক বালক ছুটছে। পায়ে অগোছালো একটা বল, শরীর ঘামে ভিজে চুপচুপে। পেটে খিদে, তবুও ক্লান্তি নেই এক বিন্দু। লক্ষ্য একটাই, গোল করতে হবে, বল ওই লক্ষ্যভেদ হওয়ার আগ পর্যন্ত নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে, ড্রিবলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে মিশিয়ে দিতে হবে মাটির সাথে।

ফুটবল মানেই তো জীবন, সেই জীবনে লড়তে হবে নিজের শেষ সামর্থ্য অবধি। ওই লড়াইটা সাও পাওলোর গলিতে, ফ্ল্যামেঙ্গোর মাঠে, ব্রাজিলের ময়দানে শিখে এসেছেন ভিনিসিয়াস। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আজকাল যা করছেন, সেটার শিক্ষা কিংবা দিক্ষা ভিনি পেলে পেয়ে গেছেন সেই শৈশবেই।

সেই ফুটবল জীবনেই এবার নিজের সেরা স্বীকৃতি পেলেন ভিনি। যেন সাও পাওলোর ঘিঞ্জি গলির নোংরা ডি বক্স ধাঁধিয়ে হাঁকানো এক সাইড ভলি। বলির গতির সামনে দিশেহারা গোলরক্ষক মেনে নিতে বাধ্য হলেন, এই ছেলেটা অন্য রকম।

যেমন ছিলেন রোনালদো নাজারিও কিংবা রোনালদিনহো। ফুটবল বিশ্বও বলে দিতে বাধ্য হল, এই ছেলেটা এখন বিশ্বসেরা, ওকে একটা ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব না দিলে চলছেই না।

এর আগে অবশ্য ব্যালন ডি’অরটাই পেতে পারতেন। ঐতিহ্যবাহী ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বছরের সেরা ফুটবলার ভিনিসিয়াস জুনিয়র হননি, হয়েছেন ফ্রান্সের রদ্রি। তবে, ফিফার বিবেচনাতে আর কোনো আক্ষেপ রইল না ভিনিসিয়াসের।

বছরখানেক আগেই রিয়াল কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি বলেছিলেন, দ্রুতই ভিনিসিয়াস জুনিয়রের হাতে উঠবে বর্ষসেরার ট্রফি। ইতালিয়ান এই গ্রেট কোচকে নিয়ে সেদিন ট্রল করার লোকের অভাব ছিল না। কোচের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য করলেন ভিনি, হাতে নিলেন ফুটবল বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক ফিফা দ্য বেস্টের সোনালি ট্রফি।

উপহাসের সেই সব তীর্যক বাক্যগুলো আজ প্রশংসা হয়ে ঝরলো ফুটবল বিশ্বে। সেটা তো হওয়ারই ছিল, কারণ গেল মৌসুমে ভিনিসিয়াস ব্রাজিল ও রিয়ালের হয়ে সব মিলিয়ে ৪৯টি ম্যাচ খেলে ২৬টি গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১১টি।

পরিসংখ্যান বলে, প্রতি ১৪৬ মিনিটে গোল করেছেন ভিনি। ড্রিবল করেছেন ৪১.৬ শতাংশ। জিতেছেন তিনটি শিরোপা—চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ। এই ভিনিকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা ব্যালন ডি’অরের হলেও, ফিফার ছিল না।

তাই তো, কাতারের রাজধানী দোহার এস্পায়ার একাডেমিতে ভিনিসিয়াসের সাথে ফুটবল বীরত্বের সেরা ও সবচেয়ে সম্মানজনক প্রতীকের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হয়ে গেল। পূর্বসূরি রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনহো কিংবা কাকাদের চূড়ায় নিজেকে নিয়ে গেলেন আরেকজন ব্রাজিলিয়ান।

নিন্দুকেরা হয়ত বলবেন, ব্রাজিলের নয় সেরার পুরস্কার পেয়েছেন রিয়ালের ভিনি। রিয়ালের হয়ে তো জিতছেনই, চাইলে এবার ব্রাজিলের হয়ে জেতার চ্যালেঞ্জটাও নিয়ে দেখতে পারেন ভিনি।

বিশ্বকাপ ব্রাজিল জিততে পারছে না ২২ বছর হয়ে গেছে। দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ। নিশ্চয়ই ভিনি-রাফিনহারা কোনো ঋণ রেখে রাতে ঘুমাতে চাইবেন না!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link