তামিম ইকবাল এসে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর মুশফিকুর রহিম আসলেন। সাথে যোগ হলেন আরও কয়েকজন। সবাই মিলে তুলে ধরবেন ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমানকে।
শেষ পর্যন্ত অনেক কিছুর পর তাঁরা তুলে ধরতে পারলেন। এবাদত হোসেন, তাওহীদ হৃদয়রা এসে যোগ দিলেন। মিরপুরের বুকে তখন এক টুকরো চাঁদের হাঁট। দলের মালিকের সাথে এমন সম্পর্ক পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসেই বিরল। যে রাজা সবারে দেন মান, সে মান আপনি ফিরে পান। ফ্রাঞ্চাইজিতে মালিকই তো রাজা। সেই রাজা মানির মান রাখতে পেরেছেন বলেই তিনি সেই সম্মানটা ফিরে পেয়েছেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সম্পর্কটা মালিক-শ্রমিকের মতই থাকে। কিন্তু, মিজানুর রহমান এখানে অন্য মানুষ। তামিম ইকবাল বা দলের অন্য যে কেউ সেটা বারবারই বলেন। আর টানা দ্বিতীয়বারের মত বিপিএল শিরোপা জয়ের পর সেটাই আরেকবার প্রমাণ হল।

বরিশালের ম্যানেজমেন্ট খেলোয়াড়দের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যেতে পেরেছে বলেই এই সাফল্য এসেছে। মাঠে দারুণ সব খেলোয়াড়ের সাথে মাঠের বাইরে দারুণ পরিকল্পনা – এই দুয়ে মিলে অনন্য হয়ে উঠেছে বরিশাল।
শেষ চারটা বিপিএলের সবচেয়ে সফল দল ফরচুন বরিশাল। সবগুলোতেই তাঁরা কমপক্ষে কোয়ালিফায়ারে খেলেছে। তিনটাতে খেলেছে ফাইনাল। আর শেষ দু’টোতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রোসেস ঠিক থাকলে, সাফল্য আসবেই।
বিপিএলে যখন একেকবার একেক মালিকানায় বিচিত্র সব নামের দল খেলে তখন একটা দলের চার বছরে তিনটা ফাইনাল খেলে দু’টো শিরোপা জেতা অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার, সত্যিই ফরচুন বরিশাল হল বিপিএলের নিজস্ব চেন্নাই সুপার কিংস। গোটা বিপিএল জুড়ে এত পারিশ্রমিক জনিত ইস্যু শুনতে পাওয়া গেল, কিন্তু গেল চারটা বছরে এমন অভিজ্ঞতায় কখনও পরতে হয়নি বরিশালের খেলোয়াড়দের।

পরিকল্পনার দিক থেকেও অন্যরকম বরিশাল। তাই তো, ৮ হাজার ৬৮৯ কিলোমিটার থেকে এসেও বরিশালের একাদশে সুযোগ হল না জিমি নিশামের। অথচ, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউজিল্যােন্ডের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার এসেছেন দিন দুয়েক আগেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, করেছেন যথেষ্ট অনুশীলন।
কিন্তু, ম্যানেজমেন্ট বুঝতে পেরেছে, জিমি নিশামকে একাদশে রাখার চেয়ে এতদিনকার চিরচেনা উইনিং কম্বিনেশন ধরে রাখাটা বেশি জরুরী। এই জরুরী কাজটা জরুরী সময়ে করতে পেরেছে বলেই তামিম ইকবাল আর মিজানুর রহমানদের এই কম্বিনেশনটা অসাধারণ!










