সৈকতের চোখজোড়া যেন বাজপাখির

কোন রকমের সহয়তা ছাড়াই সৈকত খালি চোখে আন্দাজ করে ফেললেন পুরো বিষয়টি। নিজের চোখের উপর আস্থা রেখে অনড় থেকেছেন নিজের দেওয়া নটআউট সিদ্ধান্তে।

সৈকতের চোখ যেন বাজপাখির। সূক্ষ্ম জিনিসও এড়ায়না তার নজর। বিরাট কোহলির বিপক্ষে ওঠা এলবিডব্লিউর আবেদনে আবারও দেখালেন মুন্সিয়ানা। একচুল পরিমাণ বল লাইন বরাবর থাকলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন বিরাট কোহলি।

আদিল রশিদ বল ছুড়লেন। সেই বল ব্যাটে লাগাতে পারলেন না বিরাট। অগ্যতা পেছনের পায়ে গিয়ে আঘাত করে সেই বলটি। পুরো ইংল্যান্ড দলের জোরাল আবেদন। কিন্তু একেবারে দৃঢ়চেতা শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত নাকোচ করে দিলেন সেই আবেদন।

ইংল্যান্ড ও ভারত মুখোমুখি, ম্যাচের স্টেক কতটা হাই, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন একটা ম্যাচে একটি ভুল সিদ্ধান্ত সৈকতকে তুলে দিতে পারত নিন্দুকদের সমালোচনার পাত্রে। কিন্তু ঐ বাজপাখির তীক্ষ্ম নজর সৈকতের, সেটা কি করে ভুল হয়? এদফাও সৈকতের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণিত হল।

বিরাট কোহলির উইকেট বেশ বড় উইকেট বটে। বিরাট খানিক ছন্দেও রয়েছেন। তাইতো তাকে দ্রুত আউট করা চাই ইংল্যান্ডের। সে কারণেই সৈকতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দলটি। বেশ আলাপ করে রিভিউ নেয় জশ বাটলারের দল।

টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল পিচ করেছেন লেগ স্ট্যাম্পের সামান্য বাইরে। এমনকি ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে বলে উঠল, ১০-১৫% ভেতরে পিচ করলেই আউট হয়ে যেতে পারতেন বিরাট। কেননা বল স্পিন করে স্ট্যাম্পের দিকেই ঢুকছিল, ক্ল্যাসিক লেগ স্পিনিং বল।

কোন রকমের সহয়তা ছাড়াই সৈকত খালি চোখে আন্দাজ করে ফেললেন পুরো বিষয়টি। নিজের চোখের উপর আস্থা রেখে অনড় থেকেছেন নিজের দেওয়া নটআউট সিদ্ধান্তে। ঠিক এতটা নির্ভুল বলেই, শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত ভারত-ইংল্যান্ড হাইভোল্টেজ সিরিজের দুই ম্যাচেই অনফিল্ড আম্পায়ার থাকেন।

এ কারণেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচেও তিনিই থাকছেন অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে। বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে ক্রমশ অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন সৈকত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link