পাকিস্তান, আদিম যুগের ক্রিকেট আর কত?

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ধারা চলবে কত কাল! পাকিস্তান কবে বুঝবে আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা? আদৌও কি বুঝবে! নাকি এভাবেই টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট শুধু পিছিয়েই যাবে, পিছিয়েই যাবে!

বেলা গড়িয়ে গড়িয়ে বদলে গেছে ক্রিকেটের বহু কিছু। জার্সির রঙ থেকে টিভির রং, খেলার ধরন কিংবা নির্ধারিত ওভার বিগত দশকগুলোতে বদলেছে সব কিছুই। কিন্তু এই রঙিন পর্দার মারকাটারি ক্রিকেটে কোন এক অদৃশ্য কারনে আজও ৮০ কিংবা ৯০ দশকেই আটকে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট। তাদের ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলার ধরনটা এখনো যেন সাদাকালো টিভিতে ৬০ ওভারের সেই ওয়ানডে ক্রিকেটের স্মৃতির পাতায় দাগ কেটে যায়। বাকিরা যখন ৩৫০+ ও চেজ করে যায়, সেখানে পাকিস্তান খেলে যাচ্ছে টেনে টুনে ২৫০ এর জন্যই।

বর্তমান ক্রিকেটের চাহিদাটাই মারকাটারি, ইম্প্যাক্টফুল ইনিংস। গড় না, বড় রান না, ব্যক্তগত সাফল্য না, দলের কাজে লাগে এমন ইনিংস। উদাহরণ হিসেবে ভারতের দিকেই তাকানো যায়। অধিনায়ক রোহিত শর্মা শুরুতে এসেই ছিড়েখুঁড়ে রেখে যান প্রতিপক্ষ বোলারদের। এতেই বদলে যায় প্রতিপক্ষের সব পরিকল্পনা, কৌশলের ছক। তার সাথে সঙ্গ দেওয়া গিলও বেশ স্বাচ্ছন্দেই রান তুলেন বাইশ গজে।

সঞ্চালকের ভূমিকায় থাকা কোহলিও একটা সময় গিয়ে হাত খুলে পুষিয়ে দেন শুরুর ধকলটা। এরপরেই হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজারা প্রস্তুত থাকেন বাইশ গজে তান্ডব তুলতে। তাদের পাইপলাইনটাও সেভাবেই তৈরি করা। এজন্যই অভিষেক শর্মা, যশস্বী জয়সওয়ালদের জায়গাটা এখনো সাইড বেঞ্চে।

ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ ক্রিকেটে সঞ্চালকের ভূমিকায় শুধু এক জো রুটই আছেন। তার স্ট্রাইক রেট নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায় না তেমন। অস্ট্রেলিয়াতেও সিনারিওটা একই। সেখানে ‘স্লো খেলা’ স্টিভ স্মিথ, মারনাস লাবুশেনদের স্ট্রাইকরেটটাও একশো এর উপরে।

এদিকে পাকিস্তানের ফিনিশারের স্ট্রাইকরেটটাও ১০০ এর কোটা পেরুতে বড্ড টানাটানি লেগে যায়। এই মুহূর্তে প্রথম ছয় ব্যাটারে নেই কোন আক্রমণাতক মানসিকতার কেও। ফখর জামান ছিলেন, কোমড়ের ইনজুরিতে ছিটকে গিয়েছেন তিনি। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান, সেখানেও বড় অবদান তার। ওপেনিংয়ে ওমন বিধ্বংসী ঝড় ক্রিকেটই আসলে ডিমান্ড করে।

ফখরের একদম যুতসই রিপ্লেসমেন্ট হতে পারতেন উসমান খান। সম্প্রতিই বিপিএলে ভালো করেছেন, বিধ্বংসী ব্যাটার, দলের সাথে ক্যাম্পেও ছিলেন। অথচ পাকিস্তান দলে উড়িয়ে এনে খেলানো হল আরেক স্লো গতির ওপেনার ইমাম উল হক-কে।

ইমাম উল হক, বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল কেওই আসলে দামামা বাজানো ব্যাটার নন। এরফলেই শুরু থেকেই পিছিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই ধারা চলবে কত কাল! পাকিস্তান কবে বুঝবে আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদা? আদৌও কি বুঝবে! নাকি এভাবেই টুর্নামেন্টের পর টুর্নামেন্ট শুধু পিছিয়েই যাবে, পিছিয়েই যাবে!

Share via
Copy link