কেন উইলিয়ামসন শক্ত হতে জানেন, প্রয়োজনে নরমও হতে পারেন। তিনি আসলে নদীর মত। তিনি আসেন এক স্থিরতা নিয়ে, যেন রোদ্দুরের মধ্যে এক শান্ত নদী। খরস্রোতা নয়, বরং স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক নির্ভরতার নাম হয়ে ওঠা—সেটাই তাঁর চরিত্র। কখনও ঝড়ের মধ্যে সেই নদীও উত্তাল হয়।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট যেন ধ্রুপদী কোনো শিল্পীর তুলির টান। বলের মেরিট বুঝে খেলা, ফিল্ডারদের ফাঁক খুঁজে শট বের করা, সবকিছু এতটাই পরিমিত, এতটাই নিখুঁত, যেন ক্রিকেটের বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠার শব্দ হয়ে উঠে আসছে তাঁর ব্যাটিং। সাথে পরিস্থিতির চাহিদা মিলিয়ে একটু ঝড়ের ছোয়াও থাকল। সেই ঝড়ে নিউজিল্যান্ড বোর্ডে জমা করে ৩৬২ রান।

এই ম্যাচে যখন নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল একজন ভরসার প্রতীক, উইলিয়ামসন তখন দাঁড়িয়ে গেলেন বুক চিতিয়ে। রান এল, সেঞ্চুরি করলেন। ১০৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করলেন। কেন উইলিয়ামসন যেন জানতেন, এটাই তাঁর মঞ্চ, এটাই তাঁর সময়। ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় এসে, অনেক দিনের অনভ্যস্ত একটা ফরম্যাটে তিনি নেমেই নিয়ম করে রান করছেন – এজন্যই তো তিনি বড় ব্যাটার, বড় মঞ্চের ব্যাটার।
সেঞ্চুরির পথে তিনি ছুঁয়েছেন সব বৈচিত্র্য। বাউন্ডারির ঝলক নয়, বরং স্ট্রোকের সিম্ফোনি দিয়ে জমিয়ে তুলেছেন এক মহাকাব্য। ক্লাসিক কাঠামোয় গড়া এই ইনিংসে ছিল অনুপ্রেরণার ছোঁয়া, ছিল এক যোদ্ধার প্রতিরূপ।

শেষ পর্যন্ত, তাঁর ১০২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস নিউজিল্যান্ডকে এনে দেয় এক বড় সংগ্রহ। যেন ব্যাট হাতে তিনি বলে দিচ্ছেন—খেলা শুধু শক্তির নয়, খেলা হলো মস্তিষ্কেরও। কেন উইলিয়ামসন, ক্রিকেটের ধ্রুপদী শিল্পী, লাহোরে আবারও লিখলেন এক নতুন অধ্যায়। যেখানে ব্যাট কথা বলেছে তাঁর, আর প্রতিটি শট হয়ে উঠেছে ইতিহাসের অংশ। নিউজিল্যান্ড উঠেছে রানের পাহাড়ে – আর সেই রান কি নিউজিল্যান্ডের জন্য যথেষ্ট হবে কি না – সেটা সময়ই বলে দেবে!










