রঙিন যুগ হবে শেষ

রাতের দুবাই স্টেডিয়াম আলোয় ঝলমল করছে। আরেকটা বিশ্ব শিরোপা হাতে উৎযাপন করছে ভারত। রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন, স্টেডিয়ামজুড়ে করতালি।

রাতের দুবাই স্টেডিয়াম আলোয় ঝলমল করছে। আরেকটা বিশ্ব শিরোপা হাতে উৎযাপন করছে ভারত। রোহিত শর্মা আর বিরাট কোহলি একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন, স্টেডিয়ামজুড়ে করতালি।

ভারত চ্যাম্পিয়ন! কোহলি দুই হাত তুলে দাঁড়ালেন, রোহিত দৌড়ে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন। দুই জোড়া চোখ ছলছল করছে। শেষটাও যেন সিনেমার মতো! বড় স্ক্রিনে ভেসে উঠছে — ‘দ্য এন্ড অফ অ্যান এরা!’

কাল্পনিক এক দৃশ্য। তবে, এই দৃশ্যটা খুবই অবধারিত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটা দিয়েই রঙিন পোশাকটাকে তুলে রাখতে পারেন ‘রো-কো’। ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে নিষ্ঠাবান দুই সার্ভিসম্যান। যেমনটা হয়েছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রাতে – এবারও হয়তো ঠিক তাই ঘটতে যাচ্ছে।

ইতিহাসের পাতায় শুধু তাঁদের নাম লেখা থাকবে না, তারা হয়ে উঠেছেন একেকটা যুগের প্রতিচ্ছবি। ভারতীয় ক্রিকেটের এমনই দুই নক্ষত্র — বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা।

একজন আধুনিক সময়ের ক্রিকেট দুনিয়ায় ভারতকে আগ্রাসী মানসিকতা আর অদম্য আত্মবিশ্বাস উপহার দিয়েছেন। আরেকজন হয়েছেন ঠাণ্ডা মস্তিষ্কের শিল্পী, ব্যাটিংয়ের মোজার্ট। আরেকজন খুনে মেজাজের হিটম্যান। একজন ঝড়ো সূচনা দেন, একজন দেন স্থায়ীত্ব। একজন জয়, একজন বীরু। একজন করণ তো আরেকজন অর্জুন।

ওয়ানডে ক্রিকেটের মাঠে একসঙ্গে ১৫ বছরেরও বেশি সময় পার করা এই দুই কিংবদন্তি ভারতকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য জয়, অসংখ্য শিরোপা, আর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি — একটা অটুট বিশ্বাস যে ভারত ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চের সম্রাট। আর সেই সম্রাট যেখানেই যাবে, সেখানকার মাটি অবলীলায় কুর্ণীশ করে বলবে, লং লিভ দ্য কিং!

কিছু গল্প কখনো শেষ হয় না। কোহলি-রোহিতের বিদায়ের পরও তাঁদের ছায়া থাকবে এই ২২ গজে। কারণ কিংবদন্তিরা আসলে কখনো বিদায় নেন না, তাঁরা হয়ে ওঠেন সময়হীন এক অধ্যায়। পেছনে পড়ে থাকবে অজস্র রান আর ট্রফির ইতিহাস। নাম দু’টোই এমন – তাঁদের মোছা যায় না, তরুণরা আসলেও তাঁদের মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে আগামী বিরাট কিংবা রোহিতকে!

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link