বেজে গেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দামামা। এবারের আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দিকে একটু বাড়তি নজর রাখতেই হচ্ছে। দলটা যে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল। ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের অন্বেষণ করবে হার্দিক পান্ডিয়ার মুম্বাই- সেটা নিশ্চয়ই বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
২০২৫ আইপিএল-কে সামনে রেখে হয়েছে মেগা নিলাম। দলে বদল এসেছে। শক্তিমত্তা বেড়েছে কোন কোন ক্ষেত্রে কমেছে। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা সম্ভবত মিডল অর্ডার। সুরিয়াকুমার যাদব, তিলক ভার্মার সাথে ফিনিশিং টাচ দিতে থাকবেন হার্দিক পান্ডিয়া। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই তিন ব্যাটার ঠিক কতটা ভয়ংকর, সে বিষয়টি সবারই পরিষ্কারভাবে জানা।
তাছাড়া তিলক থাকায়, একটু বৈচিত্র্যও থাকছে। তিনজনের এই মিডল অর্ডার যেকোন ধরণের লক্ষ্য সেট করতে তাদেরকে সাহায্য করবে, আবার লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রেও এই ত্রিফলা হতে পারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান অস্ত্র। তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের তুরুপের তাস হবে জাসপ্রিত বুমরাহ- এক বাক্যে এই কথা বলে দেওয়া যায়।

বুমরাহের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা একটু বেশি তটস্থ থাকেন। আর সেই ভীতির ফায়দাই তুলে নিতে চাইবে মুম্বাই। তার সাথে এবার আবার যুক্ত হয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট। নতুন বল হাতে তিনি ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে পারেন, যে কোন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে।
তবে মুম্বাইয়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা সম্ভবত স্পিন বোলিং। যদিও মুজিব-উর রহমান ও কর্ণ শর্মা রয়েছেন। কিন্তু এছাড়া আর তেমন কোন বিকল্প নেই। উপমহাদেশের উইকেটে তৃতীয় স্পিনারের অভাব ভোগাতে পারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে। তাছাড়া উইকেট রক্ষণের ক্ষেত্রেও দলটায় নেই কোন পরীক্ষিত সেনানি।
প্রোটিয়া তরুণ রায়ান রিকেলটন, ছাড়া স্বদেশী তরুণ কৃষ্ণান শ্রীজিথ রয়েছেন দলে। কিন্তু তাদের আইপিএলের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। এমন আরও একজন অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন মুম্বাইয়ের স্কোয়াডে। রবিন মিঞ্জ তরুন ক্রিকেটার।

তাদের উপর আস্থা রাখতে হচ্ছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে। এরা অবশ্য ভিন্ন সার্কিটে নিজেদের প্রমাণ করেই মুম্বাইয়ের মত দলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তবুও আইপিএলের চাপে তারা কতটুকু পারফরম করতে পারবেন- সে শঙ্কা থেকেই যায়।
মোদ্দা কথা, শক্তি আর মৃদু দূর্বলতার সংমিশ্রণের একটা একাদশ নিয়েই মাঠে নামবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। দূর্বলতাগুলোকে শক্তিতে রুপান্তরিত করার সামর্থ্য দলটার অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের রয়েছে। তেমনটি করতে পারলেই হয়ত সবচেয়ে বেশি শিরোপার মালিক বনে যেতে পারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।











