বিদ্যুৎ গতিতে ক্ষয়ে যাওয়া সম্ভাবনা

মেঘ যত গর্জে, তত বর্ষে না। উমরানের ক্ষেত্রেও যেন সেই রুপকই কাজে লাগানো যায় অনায়াসে। পাহাড় চূড়া উঠেছিলেন তিনি প্রথম আসরেই। কিন্তু সেখান থেকে ক্রমশ নিচের দিকেই নেমে যাচ্ছেন।

গতির ঝড় আর একরাশ বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়েছিলেন উমরান মালিক। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম আসরে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে। শোয়েব আখতারের সর্বোচ্চ গতিও হুমকির মুখে- এমন অভিমতের সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন উমরান মালিক। কিন্তু মাত্র তিন মৌসুমের মধ্যেই শিখর থেকে শেকড়ে নেমে গেলেন তিনি।

কিন্তু মেঘ যত গর্জে, তত বর্ষে না। উমরানের ক্ষেত্রেও যেন সেই রুপকই কাজে লাগানো যায় অনায়াসে। পাহাড় চূড়া উঠেছিলেন তিনি প্রথম আসরেই। কিন্তু সেখান থেকে ক্রমশ নিচের দিকেই নেমে যাচ্ছেন। ২০২৫ আসর তো তার খেলাই হবে না- ইনজুরির কারণে তিনি ছিটকে গেছেন পুরো মৌসুম থেকেই।

এবারের মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা ছিল উমরানের। ২০২২ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে উত্থান হয় উমরানের। সেবার রীতিমত করেছিলেন বাজিমাত। ১৪ ম্যাচে ২২ খানা উইকেট বাগিয়েছিলেন তিনি গতির ঝড়ে প্রতিপক্ষের চোখ ছানাবড়া করে।

তার প্রতি প্রত্যাশার পারদ আকাশ ছুয়েছিল। কিন্তু ঠিক তার পরের মৌসুমেই ফিকে হতে শুরু করেন উমরান। ২০২২ সালে ঝলক দেখানোর পর তিনি জাতীয় দলের জার্সিও গায়ে চড়িয়েছিলেন। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে স্রেফ তার গতির জন্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু উল্কার মত চোখের নিমিষেই যেন সেসব হয়ে গেল অতীত।

ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে নিজেকে আর সেই ভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ২০২৪ আইপিএলে তো খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ, থেকেছেন উইকেট শূন্য। এর আগে ২০২৩ মৌসুমে আট ম্যাচ খেলে পাঁচ উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। শুরুতেই প্রত্যাশার পাহাড় গড়ে যেন তিনি নিজেই পড়েছেন বিপাকে।

সেই প্রত্যাশার পূরণের জন্যে নিজেকে নিঙড়ে দিতে গিয়ে ইনজুরি আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন তিনি। আর তাতেই যেন সকল সম্ভাবনার প্রদীপের জ্বালানি ক্রমশ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই ইনজুরির বাঁধন ছিঁড়ে, প্রত্যাশার পাহাড় ডিঙিয়ে উমরান কি পারবে আবার গতির তাণ্ডব তুলতে?

Share via
Copy link