স্বার্থপর বাবর, উপক্ষিত উসমান- পাকিস্তানের গোঁজামিল ব্যাটিং অর্ডার

চিরায়ত নিয়ম মেনে পাকিস্তানের বাকি ব্যাটারদের উপর চাপ সমানুপাতিক হারে বেড়েছে। আর সেই প্রবল স্নায়ুচাপে তারা এক এক করে প্যাভিলন থেকে বাইশ গজ সেখান থেকে আবার প্যাভিলনের পথে ফিরেছেন।

উপেক্ষিত উসমান খান পাকিস্তানকে এনে দেন ফ্লাইং স্টার্ট। কিন্তু ভরসার প্রতীক বাবর আজমের ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা। দলের জন্যে নয়, নিজের পরিসংখ্যানের জন্যে খেলতে পারলেই যেন তার সমস্ত সুখ। অন্যদিকে বরাবরের মত একাই লড়লেন পাকিস্তানের নয়া আস্থার স্তম্ভ সালমান আলি আঘা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। ৩৪৫ রানের বিশাল টার্গেট ছুড়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে ওপেনিংয়ে খানিকটা আগ্রাসী হতে হতো পাকিস্তানকে। সেই আগ্রাসনের ঝাঁজ নিয়ে হাজির হন উসমান।

অথচ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তাকে কাটাতে হয়েছে সাইড বেঞ্চে বসে, ফখর জামানের ইনজুরির পরও। তবে সে গ্লানি ভুলে উসমান ব্যাট চালিয়েছেন নব উদ্যমে। তাতে করে ১২ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোরবর্ডে ৭৯ রান বিনা উইকেটে।

উসমান খানে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের প্রভাবে বলের সাথে রানের খুব একটা তারতম্য ঘটাননি আবদুল্লাহ শফিকও। তাতে করে দারুণ শুরুতে জয়ের দিকেই ছিল পাকিস্তানের নজর। তবে ৮৩ রানে প্রথম উইকেট জুটি ভাঙার পরই যেন সকল সমীকরণ হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়া বাবর আজমের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ছিল ভীষণ প্রশ্নবিদ্ধ। বাবর ও শফিকের জুটির স্থায়িত্বকাল ছিল মাত্র পাঁচ রানের। কিন্তু বলের হিসেবে এটি টিকে ছিল প্রায় ১৮ বল। এই সময়ে বাবর ১০টি বল ডট দেন। ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই একটু একটু করে ম্যাচের মোমেন্টাম পাকিস্তানের হাত থেকে ফসকে যেতে শুরু করে।

দিনশেষে অবশ্য বাবরের দোষের ওপর ৮৩ বলে ৭৮ রান একটা প্রলেপ দিয়ে দেবে। হয়ত দূর থেকে দেখে মনে হবে বাবর তো ভালই খেলেছেন। কিন্তু ১২ ওভারে ৮০ রান এসে যাওয়ার পর পরবর্তী ২০ বল খেলে ১২ রান নেওয়া অন্যায়, মোমেন্টামকে ধ্বংস করার জন্যে যথেষ্ট।

তারপর চিরায়ত নিয়ম মেনে পাকিস্তানের বাকি ব্যাটারদের উপর চাপ সমানুপাতিক হারে বেড়েছে। আর সেই প্রবল স্নায়ুচাপে তারা এক এক করে প্যাভিলন থেকে বাইশ গজ সেখান থেকে আবার প্যাভিলনের পথে ফিরেছেন। ব্যতিক্রম ছিলেন আঘা সালমান। ৪৮ বলে ৫৮ রানের একটা ইনিংস এসেছে ব্যাট থেকে। সকল সমীকরণ মাটিচাপা পড়ার আগে তিনি শেষ চেষ্টাটা চালিয়েছেন।

কিন্তু ততক্ষণে ব্যবধান কমানো ছাড়া আর তেমন কিছুই ঘটেনি। তবুও ৭৩ রানের বিশাল পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাকিস্তান। একটা ইউনিট হয়ে কোনভাবেই যেন খেলা হয়ে উঠছে না পাকিস্তানের। ব্যাটিং ইউনিটের দুই ভিন্ন মনোভাবই যেন তাদেরকে জয় থেকে রাখছে যোজন যোজন দূরে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link