টি-টোয়েন্টিতে অচল সিএসকে: মিরাকলের মরীচিকায় ভেঙে পড়া এক সাম্রাজ্য

কেউ ব্যাট চালাতে জানে না, কেউ চালানোর সাহস পায় না। টি-টোয়েন্টি যেখানে আগ্রাসনের খেলা, সেখানে এই সিএসকে যেন ‘বাঁচিয়ে রাখো উইকেট’ দর্শনের শেষ যোদ্ধা।

চেন্নাইয়ের আকাশে এখন শুধুই হতাশা। সেই পুরনো মহেন্দ্র সিং ধোনি আর নতুন করে ম্যাজিক তৈরি করেন না। আর সেই সিএসকে — যারা এক সময় ছিল আইপিএল শিরোপার অন্য নাম, তারা আজ যেন কেবলই স্মৃতি!

চেন্নাই সুপার কিংস এখন বারবার পতনের গল্প লিখছে। ধোনি আছে, কিছু একটা করে দেবে – এই থিওরি আর চলছে না। বাস্তবতা বড় নির্মম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তো আর আবেগ চেনে না, সে চেনে গতি, ছন্দ আর সাহসের ব্যাটিং। আর সেখানেই তো ধরা খেয়ে যাচ্ছে চেন্নাই।

এই দলকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা ভুল ফরম্যাটে খেলতে নেমেছে। ওপেনিংয়ে যাঁরা আছেন, তাঁরা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না পাওয়ার প্লে কাকে বলে। মিডল অর্ডার যেন অতীতের ছায়া। একমাত্র শিভাম দুবে ছাড়া কেউ আছেন বলে মনেই হয় না।

কেউ ব্যাট চালাতে জানে না, কেউ চালানোর সাহস পায় না। টি-টোয়েন্টি যেখানে আগ্রাসনের খেলা, সেখানে এই সিএসকে যেন ‘বাঁচিয়ে রাখো উইকেট’ দর্শনের শেষ যোদ্ধা।

এই দলটার কোনো কাঠামো নেই, দৃষ্টিভঙ্গি নেই, ভবিষ্যৎ তো দূরের কথা। যে ঘরটা একদিন শৌর্য আর স্ট্র্যাটেজির দুর্গ ছিল, এখন তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি অবশ্যই কিংবদন্তি। হ্যাঁ, কিন্তু কিংবদন্তি তো সময়কে থামাতে পারে না।

আজ তিনি মাঠে নামেন, দর্শক চিৎকার করে — কিন্তু, দল বা দর্শক সবাই মাঠ ছাড়ে হতাশা নিয়ে। স্টিফেন ফ্লেমিং বারবার বলেন, উইকেট তাঁদের পক্ষে ছিল না। কিন্তু, এবার তো মন মত উইকেটই পেলেন। উইকেট ঘুরলে, ঘুরে চেন্নাইয়ের মুখে থাপ্পড় মারল। সুনীল নারাইন, বরুণ চক্রবর্তী, মঈন আলীরা হাত খুলে পেল চিপক থেকে। পেল না কেবল সিএসকে।

রাহুল ত্রিপাঠি, দীপক হুডারা সিএসকের নামের ভার টানতে পারছেন না। আর তাঁদেরই যদি টানতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে এই দলে পরিকল্পনার ঘাটতি নয়, পরিকল্পনাই নেই।

এটাই তো সময় বাস্তব মেনে নেওয়ার। এই ব্র্যান্ড, এই ধোনি, এই চেন্নাই — সবকিছুই ছিল জয়ের খাঁচায় বন্দী। হার যখন নিয়মে পরিণত হয়েছে, ব্র্যান্ড ভ্যালু তখন শূণ্যের কোঠায়। কি নির্মম! কি ভয়াবহ দু:স্বপ্ন!

Share via
Copy link