আইপিএলে ফিক্সিংয়ের ছায়া – রহস্যময় ‘ব্যবসায়ী’র ফাঁদ

উৎসবের ছায়ায় ঢুকে পড়েছে এক অদৃশ্য অন্ধকার।একজন ‘ব্যবসায়ী’—যার পরিচয় যতটা রহস্যময়, ততটাই সন্দেহজনক।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) মানেই রঙিন রাতের গল্প, গর্জে ওঠা গ্যালারি, তারকাদের ঝলক আর কোটি কোটি হৃদয়ের স্পন্দন। কিন্তু, ঠিক সেই মুহূর্তেই, উৎসবের ছায়ায় ঢুকে পড়েছে এক অদৃশ্য অন্ধকার।একজন ‘ব্যবসায়ী’—যার পরিচয় যতটা রহস্যময়, ততটাই সন্দেহজনক।

হায়দ্রাবাদ থেকে উঠে আসা এই ব্যক্তি, যার অতীত জড়িয়ে আছে বাজিকরদের সাথে। বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) মনে করছেন, এই ব্যবসায়ী ফিক্সিংয়ের অশুভ চক্রকে জীবন্ত করে তুলতে চায় আইপিএলের রঙিন আঙিনায়।

বিসিসিআইয়ের দুর্নীতি দমন ইউনিট আকসু এবার সরব। একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে গেছে দলগুলোর মালিক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এমনকি ধারাভাষ্যকারদের কাছেও। আকসুর তরফ থেকে বলা হয়েছে সতর্ক থাকতে। কারণ, এই ব্যবসায়ী এখন ছদ্মবেশে, ‘ভক্ত’ সেজে, দলের হোটেলে, ম্যাচের পাশে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, এমনকি পরিবারের মধ্যেও ঢুকতে চাইছে।

তাঁর কৌশল নিখুঁতভাবে সাজানো—দামী উপহার, জুয়েলারি, বিলাসবহুল হোটেলের দাওয়াত, কিংবা বিদেশে থাকা আত্মীয়দের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করা। আর এর মধ্য দিযেই ধীরে ধীরে বিস্তার করা যাবে অনৈতিকতার জাল। যেন কেউ বুঝে ওঠার আগেই, খেলোয়াড়দের পায়ের নিচের মাটি সরে যায়।

ক্রিকেটের বাস্তবতাই এখন এমন। এখানে এক মুহূর্তের অসতর্কতেই হয়ে উঠতে পারে চিরস্থায়ী কলঙ্ক। বিসিসিআই জানিয়েছে, আইপিএলকে কলুষমুক্ত রাখার লড়াইয়ে তারা আপসহীন। প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন সুবিধা এনেছে, তেমনই দুর্নীতির পথও খুলে দিয়েছে।

এই বাস্তবতা মাথায় রেখে, সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে, ‘যেকোনো সন্দেহজনক যোগাযোগ রিপোর্ট করুন। যেকোনো কিছু করার আগে আরেকবার ভাবুন, আর খেলাটাকে রক্ষা করুন।’

Share via
Copy link