আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট যত ভালো, সেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কথা নিয়ে অনেক যুক্তি তর্ক থাকতেই পারে। তবে এসব ছাপিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন তরুণ তুর্কী শাহিবজাদা ফারহান।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে এক অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরি তাকে নিয়ে এসেছে আলোচনায়। ঠিক তার পরের ম্যচেই প্রায় ১৫২ স্ট্রাইক রেটে ৩৫ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে জানান দেন ব্যাট হাতে কতটা ধারাবাহিক তিনি। তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হয় যেন ব্যাট হাতে ২২ গজে নয়, যুদ্ধের ময়দানে এসেছেন তিনি। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একজন ব্যাটারের যেমন হওয়া প্রয়োজন ফারহান যেন ঠিক তেমনই।
পিএলএলের এক সেঞ্চুরি শুধু নয়, পাকিস্তানের ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন তিনি। সাত ম্যাচ খেলে দুই ফিফটি আর তিন সেঞ্চুরিতে ৬০৫ রান করে হন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় ছিল তার ১৮৯.৬৬ স্ট্রাইক রেট। পিএসএল এবং ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপ মিলিয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে ইতোমধ্যে করেছেন চার সেঞ্চুরি যা অতিমানবীয় বলাই যায়।

বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেট সাদা বলের ফরম্যাটে রীতিমতো ধুকছে। ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি সব খানেই হোচট খাচ্ছে বারবার। সেরা ব্যাটাররা ছন্দে নেয়, দলে চলছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মিশন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন ভাবে দল সাজানোর পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। আর এই দলে গেম চেঞ্জার হতেই পারেন শাহিবজাদা ফারহান।
বাবর আজম -রিজওয়ানরা পাকিস্তানের সেরা ব্যাটার। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুবই হতাশাজনক। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেন নিজেদের মানিয়ে নিতেই পারছেন না তারা। ২০২৪ সালে, বাবর আজম ২৪ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন যেখানে রান করেছেন ৭৩৮। স্ট্রাইক রেট ১৩৩.২১। অন্যদিকে রিজওয়ান খেলেছেন ২১ ম্যাচ, ১১৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৬১৭ রান।
দুজনেই রান করেছেন তবে ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস তেমন নেই। বিশেষ করে প্রশ্নবিদ্ধ তাদের স্ট্রাইক রেট। শাহিবজাদা ফারহান যেখানে ১৯০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছেন সেখানে বাবর রিজওয়ানরা রয়েছেন অনেকটা পিছিয়ে। আর তাই তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাদও পড়তে হয়েছে তাদের।

বর্তমানে সাদা বলের ক্রিকেট যেন রুপ বদলে হয়েছে যুদ্ধের মঞ্চ। যেখানে ব্যাটাররা কচুকাটা করেন বোলারদের। স্কোরবোর্ডে শুধু রান হলেই হবে না দরকার রানের পাহাড়। আর তাই তো রান রমরমার বাজারের সাথে ব্যাটাররাও সেভাবেই তৈরি হচ্ছেন। যেমনটা তৈরি হয়েছেন শাহিবজাদা ফারহান। সুযোগটা ঠিকমতো পেলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফারহান হবেন বাজির ঘোড়া, আপাতদৃষ্টিতে তা বলাই যায়।










