প্রশ্নের মুখে জাসপ্রিত বুমরাহর ক্রিকেটীয় সৌজন্য

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম সানরাইজার্স — চোখের পলকে ম্যাচের মেজাজ বদলে যাচ্ছিল। বল হাতে দৌড়াচ্ছিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। যাকে সবাই বলে, ‘বুম বুম বুমরাহ’ — ক্রিকেটের ভয়ঙ্করতম বোলারদের একজন। আগ্রাসন দেখাতে গিয়েই যেন তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হলেন।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম সানরাইজার্স — চোখের পলকে ম্যাচের মেজাজ বদলে যাচ্ছিল। বল হাতে দৌড়াচ্ছিলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। যাকে সবাই বলে, ‘বুম বুম বুমরাহ’ — ক্রিকেটের ভয়ঙ্করতম বোলারদের একজন। আগ্রাসন দেখাতে গিয়েই যেন তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হলেন।

১৩তম ওভারের দ্বিতীয় বল, অভিনব মনোহর ছক্কা হাঁকালেন। সেই ছক্কার শব্দটা যেন বুমরার বুকের ভেতরেই গিয়ে লাগল। পরের বলেই বুমরাহ দিলেন এক ফুলটস। কোমরের সামান্য নিচে, সোজা তলপেটে গিয়ে আঘাত হানে। গতি এতটাই ছিল যে ব্যাট ঠিকমতো নামাতে পারলেন না অভিনব। সরাসরি বলের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তরুণ ব্যাটার।

সাধারণত এমন সময়ে ক্রিকেট থমকে দাঁড়ায়। প্রতিপক্ষ ব্যাটার ব্যথায় কাতরালে, বোলার গিয়ে হাত রাখেন কাঁধে। এটা শুধু ভদ্রতা নয়, এটা ক্রিকেটের পুরনো সংবেদনশীলতা।

কিন্তু, বুমরাহ সে পথে গেলেন না। তিনি তখন হাঁটছিলেন সোজা, মাথা নিচু করে, একবারও ফিরে না তাকিয়ে। যেন কিছুই হয়নি। যেন ছক্কার বদলা চুকিয়ে নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। যেন ব্যাটারের ব্যাথাতে তাঁর তেমন কিছু যায় আসে না।

সোশ্যাল মিডিয়া থেমে থাকেনি। ঝড় বইয়ে দিলো প্রশ্নের। কেউ বলল,  ‘বুমরাহ কি ক্রিকেটের সেই সৌজন্য ভুলে গেছেন?’ কেউ লিখল, ‘ছক্কা পাওয়ার পর এভাবেই কি প্রতিশোধ নিলেন বুমরাহ?’ আক্ষেপের সুরটা হল, বোলার হিসেবে শুধু নয় – বোলার হিসেবেও বড় হওয়ার সুযোগ কেন হারাচ্ছেন বুমরাহ।

অভিনব মনোহর উঠে দাঁড়ালেন। সাহস দেখালেন। পরের বলেই আবার মুখোমুখি হলেন বুমরার। ভাগ্য সহায় ছিল। সুরিয়াকুমার যাদব ক্যাচটা ফেললেন। অভিনবই বরং শোধ-আর প্রতিশোধের লড়াইয়ে জিতে গেলেন এই দফায়! কিন্তু, আকাশের এক কোণে ঝুলে থাকা মেঘের মতো বুমরাহর আচরণ প্রশ্নবিদ্ধই থাকল।

Share via
Copy link