ফিয়ারলেস বস বেবি, ব্যাট হাতে আঁকে আগ্রাসনের ছবি

এমন প্রতিভা যে লাখে নয়, কোটিতে একটা। তাবড় তাবড় সব ব্যাটারদের পেছনে ফেল অভিষেক আসরেই তিনি নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে।

ফিয়ারলেস, ফিউরিয়াস, বস বেবি ইজ অ্যা ফায়ার। বৈভব সুরিয়াভানশি যেন এক ক্ষুদ্র আগ্নেয়গিরি। তবে বিস্ফোরিত হয় প্রবল বেগে। লাভা ছড়িয়ে যায় মাঠের চারিদিকে। জয়পুরকে মাতিয়ে তুললেন তিনি অবিশ্বাস্য এক ব্যাটিং ঝড়ে। সর্বকনিষ্ঠ শতকের মালিক। দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি আইপিএলের মঞ্চে।

নির্ভীক, অকুতোভয়- দেখে বোঝার উপায়ই নেই বয়স ১৪ তার। ইশান্ত শর্মার ক্যারিয়ারও তার আয়ুষ্কালের চাইতে বড়, সেই বোলারের বলেও ব্যাট চলে বৈভবের চোখ বন্ধ করে। ভয়হীন এক ব্যাটিং তাণ্ডব তিনি ঘটালেন গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে।

স্রেফ ১৭ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন বস বেবি। সেঞ্চুরি করতে খরচ তার মাত্র ৩৫ বল। গুজরাটের বোলাররা খেয়েছে ভীষণ খাবি। অভিজ্ঞতার ভারে, দায়িত্ব বাড়ে। কিন্তু বৈভবকে দেওয়া হয়েছে পূর্ণ স্বাধীনতা। উইকেটে সময়টা স্রেফ উপভোগই করতে বলা হয়েছে তাকে। তিনি সেটাই করছেন। চিন্তাহীন ব্যাটিংয়ে তিনি জানান দিচ্ছেন নিজের প্রতিভা।

ভারতের ব্যাটিং লিগ্যাসিতে যুক্ত হতে চলেছে আরও এক মহারথী। নিজের প্রতিটি শটে যেন সে কথাই বলতে চাইলেন তিনি। পাওয়ার-প্লেতে তুললেন ২০ বলে ৫২। তাতে করে গুজরাটের ২১০ রানের লক্ষ্যমাত্রাও যেন রাজস্থানের জন্যে স্বল্প মনে হতে শুরু করল। এরপরও থামলেন না, তরবারির আঘাতে গুজরাটকে করলেন কচুকাটা। পরবর্তী ১৫ বলে নিলেন আরও ৪৮ রান।

১০১ রানের ইনিংসটিতে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ১১টা, চারের সংখ্যা সাত। চারের চাইতেও ছক্কা হাঁকাতে বৈভবের সকল আনন্দ। হাওয়ায় ভাসিয়ে বলকে গ্যালারিতে পাঠানোতে তার নেই কোন কার্পণ্য।  তার সামনে বোলার যেই থাকুক না কেন, তিনি ব্যাট চালাবেন কোন ভাবনা ছাড়াই। অভাবনীয় এক রত্ন বটে। এই রত্নের যত্ন ছাড়া দ্বিতীয় কোন বিকল্প নেই। মনের ভেতরে ভয়ের যেন বাসা না হয়, সেটাই নিশ্চয়ই প্রাথর্ণা সকলের।

এমন প্রতিভা যে লাখে নয়, কোটিতে একটা। তাবড় তাবড় সব ব্যাটারদের পেছনে ফেল অভিষেক আসরেই তিনি নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে। বিস্ময় ভরা নয়নে সকলে উপভোগ করেছে বৈভবের এই অতিমানবীয় ইনিংস। আর মনে মনে ভেবেছে, এই ছেলের বয়স কি আসলেই ১৪!

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link