রাজস্থান রয়্যালসের আইপিএল অভিযান শেষ। আর হ্যাঁ, টেবিলের নিচ থেকে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করাটা নিশ্চয়ই গর্বের কিছু না। কিন্তু মাঝখানে একটা নাম, কিছু ইনিংস, বিশাল কিছু ঝলক — সব হতাশা ভুলিয়ে দেয়। রাজস্থানের সেই ছোট্ট তীর — বৈভব সুরিয়াভানশি। বয়স মাত্র ১৪!
শুধু নিজের প্রথম সেঞ্চুরিই করলেন না, আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরির মালিক বনে গেলেন। ৩৮ বলে ১০১ রান! চার-পাঁচ দিনের জন্য আইপিএলের সব আলো গিয়ে পড়ল একটাই নামে — বৈভব সুরিয়াভানশি।
বয়সে কাঁচা, কিন্তু ব্যাটে পুরোদস্তুর পাকা। তার সেঞ্চুরির পর ৫০০-এর বেশি মিসড কল আসে! তবু তিনি ফোন বন্ধ রাখেন চার দিন। ক্যামেরার সামনে এসে বলেন, ‘আমি আমার মানুষদের সঙ্গেই থাকতে চাই। বাড়ি আর কিছু বন্ধুবান্ধব – এই তো আমার দুনিয়া।’

এই ‘শান্ত’ দুনিয়া গড়ার পেছনে ছিল বছর তিনেকের প্রস্তুতি। সেটার ফল আজ নিজের চোখেই দেখছেন তিনি। বৈভব বলেন, ‘দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলতে হয়। বেশি কিছু করতে গেলেই গণ্ডগোল। নিজের জোনে থাকাটাই সবচেয়ে জরুরি।’
এই কিশোর ইতিমধ্যেই ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছে। সামনে ইংল্যান্ড সফর—পাঁচটা ওয়ানডে, তিনটা চারদিনের ম্যাচ। নতুন কন্ডিশনে নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু যা টেম্পারামেন্ট, তাতে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এখন রয়্যালসের কোচ রাহুল দ্রাবিড়। একান্ত আলাপচারিতায় সাবধান করে দিয়েছেন বৈভবকে। বলেছেন, সব বোলাররা এবার তোমাকে ধরার জন্য প্রস্তুতি নেবে। আমাদেরও তৈরি হতে হবে আরও ভালোভাবে। এখন সবাই তোমার ভুল খুঁজবে।’

তাই এখনই হিরো হয়ে যাওয়ার কিছু নেই বৈভবের। তবে, যতটুকু সময় খেলেছেন আইপিএলে সময়কে থামিয়ে দিতে পেরেছেন তিনি।










