শ্রীলঙ্কার বুকে ক্রিকেট মাঠের কোনো অভাব নেই। এর চেয়েও মজার ব্যাপার হল, সবগুলোতেই কম বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়ে গেছে। তেমনই এক মাঠ হল কলম্বোর কোল্টস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, আর এটা হল খোদ চামিন্দা ভাসের মাঠ।
এখানে নারী ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক খেলা হয়েছে বিস্তর। এমনকি এই বছরেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল এই মাঠে খেলেছে ওয়ানডে ম্যাচ। তবে, সব ছাপিয়ে এই মাঠ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, রয় মেন্ডিস, চামিন্দা ভাস, রমেশ কালুভিতারানা কিংবা থিলান সামারাবীরাদের মাঠ।

চামিন্দা ভাস কে? বাংলাদেশ কি করে চামিন্দা ভাসকে ভুলে যেতে পারে! ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালবাসা দিবস। কিন্তু ২০০৩ সালের এই দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার পিটারমারিজবার্গে বাংলাদেশ দল যেন চোখে সর্ষেফুল দেখেছিল।
প্রথম তিন বলেই হ্যাটট্রিক! ওয়ানডে ইতিহাসে এমনটা কেউ করেননি, চামিন্দা ভাস ছাড়া। ইনিংসের প্রথম পাঁচ বলের মধ্যেই ৪ উইকেট। বাংলাদেশ গুঁড়িয়ে যায় ম্যাচের শুরুতেই। সেদিন ভাসের বোলিং ফিগার—৬ উইকেট, ২৫ রান। আর ম্যাচ জিতল শ্রীলঙ্কা, ৩০ ওভার হাতে রেখে।

ওয়ানডেতে ৪০০, টেস্টে ৩৫৫ উইকেট নিয়েছেন। তারপরও তাঁকে নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। অন্তত, সমসাময়িকদের সাথে তাঁর নাম উচ্চারিত হতেই পারে। আলোচনা হওয়া দরকার, আর এখানে বলে রাখা দরকার এর অধিকাংশ উইকেট তিনি নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার পাটা উইকেটে।
ওয়ানডের ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগারের মালিকও ভাস। ২০০১ সালের ডিসেম্বরে সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৯ রান দিয়ে নিয়েছিলেন আট উইকেট। ওয়ানডেতে আর কোনো বোলার কখনো আট উইকেটই নিতে পারেননি। জিম্বাবুয়ে সেই ম্যাচে মাত্র ৩৮ রানে অলআউট হয়।

এই চামিন্দার বিকাশ হয়েছে কোল্টস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এক পাশে পাশ্চাত্য ঘরানার একটা স্ট্রাকচার। সেখানে ভিআইপি বক্স, ক্লাব হাউজ আর খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম। ড্রেসিংরুমে চামিন্দা ভাস কিং কোনো গ্রেট ক্রিকেটারের ছবি নেই, তবে অনার্স বোর্ডে সবার নাম আছে।
আরেকটা ড্রেসিংরুম একটু দূরে, সেখানেই ক্ষুদে ‘ট্রেইনি’ ক্রিকেটারদের খাবার-দাবারের আয়োজন চলছে। স্কোরবোর্ডটা পুরনো ধাঁচের। অবকাঠামো একটা ক্লাবের বিবেচনায় বেশ আধুনিকই বলা যায়।

শ্রীলঙ্কায় গ্রেট হলেও চামিন্দা ভাসকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্ডাররেটেডই বলা যায়। কিন্তু, বাস্তবতা হল ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন মোটে তিনজন – স্বদেশী মুত্তিয়া মুরালিধরণ, ও ‘টু ডব্লিউজ’ খ্যাত পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুস।
যদিও, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব মাঠে চামিন্দা ভাসের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। তবে, চিহ্ন আছে ওই বাইশ গজে। যেখানে আজও শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চামিন্দা ভাস হওয়ার স্বপ্ন দেখে।











