একটা লো স্কোরিং থ্রিলার। শেষ ওভারের রোমাঞ্চে বাংলাদেশ পেয়েছে জয়। তবে সেই রোমাঞ্চের সৃষ্টি হয়েছে মূলত শরিফুল ইসলামের হাত ধরে। তিন খানা গুরুত্বপূর্ণ উইকেটে তিনিই বরং পাকিস্তানকে ঠেলে দিয়েছিলেন চাপের মুখে। তাছাড়া বাকিদের তুলনায় কৃপণতাও দেখিয়েছেন বা-হাতি এই পেসার।
মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেলেন শরিফুল। তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে তাকে যুক্ত করা হয়। তার এই সংযুক্তি সুমিষ্ট ফল হয়ে ধরা দিয়েছে ম্যাচ শেষে। ১৩৪ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে আট রানে।
নিজের প্রথম ওভারেই শরিফুল আঘাত হানেন পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে। মোহাম্মদ হারিসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি। এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে ভয়ংকর ব্যাটার ফখর জামানও শরিফুলের শিকার।

ডাউন দ্য লেগের একটি বল ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলতে চেয়েছিলেন ফখর। গ্লাভসের আলতো ছোঁয়া লেগে সে বল জমা হয় লিটনের দস্তানায়। আম্পায়ার আউট না দিলেও, ফখর হাঁটা শুরু করেন প্যাভিলিয়নের দিকে। ১৪ রানে পাকিস্তান হারায় নিজেদের তৃতীয় উইকেট। নিজের প্রথম স্পেলের দুই ওভারেই শরিফুলের পকেটে যুক্ত হয় দুইটি উইকেট।
বলের মুভমেন্টে বেশ পীড়া দিয়ে গেছেন শরিফুল পুরোটা সময়জুড়ে। চারটি উইকেট পেতে পারতেন তিনি। তবে তানজিম হাসান সাকিব ক্যাচ ফেলে দিয়ে সেই সম্ভাবনা ভূপাতিত করেন। এর আগে অবশ্য ভয়ংকর হয়ে ওঠা আব্বাস আফ্রিদিকে সাজঘরে পাঠান শরিফুল।
ব্যক্তিগত চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই আব্বাস আফ্রিদির উইকেট উপড়ে ফেলেন শরিফুল। তাতে করেই যেন বাংলাদেশ জয়ের সম্ভাবনা বাড়তে শুরু করে। এছাড়াও দলের পক্ষে সর্বনিম্ন রান হজম করেছেন শরিফুল। মাত্র ৪.২৫ ইকোনমিতে স্রেফ ১৭ রান দিয়েছেন বা-হাতি এই পেসার।

তার এমন দারুণ বোলিংয়ের কল্যাণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই বা ততোধিক ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এর আগে কখনোই জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবারই প্রথম তাদেরকে হারাতে পেরেছে লিটন দাসের দল। একাদশে ফিরে দারুণ বোলিংয়ে সেই সুযোগটা তৈরি করে দিয়েছেন শরিফুল।











