মিরপুর নয়, এশিয়া কাপের প্রস্তুতি সিলেট কিংবা চট্টগ্রামে!

এই সময়টায় ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা ছিল, এখন হচ্ছে না তাই বাংলাদেশের পূর্ণ মনোযোগ এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে। 

মিরপুর নিয়ে অনীহা বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। মিরপুরের সমালোচিত উইকেটে, ঠিকঠাক প্রস্তুতি হয় না। তাই বাংলাদেশের এশিয়া কাপের ক্যাম্প হবে সিলেট কিংবা চট্টগ্রামে। এশিয়া কাপের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১১ সেপ্টেম্বর।

মাঝে প্রায় এক মাসের বেশি সময় বাকি আছে। কার্যত এই সময়টায় ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা ছিল। কিন্তু সেই সিরিজটি এই মুহূর্তে আয়োজিত হচ্ছে না। তাইতো বাংলাদেশের পূর্ণ মনোযোগ এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে।

যদিও দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই এই মুহূর্তে রয়েছেন ছুটিতে। শ্রীলঙ্কায় টানা এক মাসের সিরিজের পর, টি-টোয়েন্টি দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠেও সিরিজ খেলেছে। স্বাভাবিকভাবেই আরেকটা বড় টুর্নামেন্টের আগে খেলোয়াড়দের বিরতি প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ছুটি শেষে বাংলাদেশ দলের কর্ম পরিকল্পনা কি হবে? সোজাসাপ্টা উত্তর এশিয়া কাপের প্রস্তুতি। তবে সেই প্রশ্নের সাথেই সম্পূরক প্রশ্ন জুড়ে গেছে, বাংলাদেশ দল কি মিরপুরেই প্রস্তুত হবে? নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় মিরপুর এগিয়ে থাকলেও, উইকেটের ধরণের কারণে মিরপুরে প্রস্তুতি ক্যাম্প নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বিমত রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের।

এক্ষেত্রে সিলেট কিংবা চট্টগ্রামে প্রস্তুতি ক্যাম্প করার চিন্তা ভাবনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। একটু ভাল উইকেটে ব্যাটারদের অনুশীলন বাড়াতে পারে তাদের আত্মবিশ্বাস। এশিয়া কাপ আয়োজিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেখানকার উইকেটও স্পিন বান্ধব। তবে বহুদেশীয় আয়োজনে উইকেট তুলনামূলক স্পোর্টিং থাকে।

স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটারদের রান করা সহজ নয়, আবার বোলারদেরও উইকেট তুলে নিতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। এমন বিবেচনায় সিলেট হতে পারে আদর্শ। তবে এখনই চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। দিন কয়েকের মধ্যে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে।

প্রস্তুতি ক্যাম্প ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চেষ্টায় আছে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের। এই মুহূর্তে নেপাল কিংবা নেদারল্যান্ডসকে রাখা হয়েছে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের ভাবনায়। বেশ আটঘাট বেঁধে বাংলাদেশ দল এশিয়া কাপের প্রস্তুতির জন্যে মাঠে নামবে তা নিশ্চিত।

তাছাড়া ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল গোছানোর বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় সম্ভাব্য দ্বিতীয় সেরা দলের সাথে বর্তমান টি-টোয়েন্টি দলের মাঝেও প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা প্রবল। পরিকল্পনার ছকে পেন্সিলের আঁচড় পড়তে শুরু করেছে। এখন দেখার পালা, বাস্তবে ঠিক কতটুকু রুপান্তরিত হয় শেষমেশ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link