রিয়ালের রয়্যাল শো

রিয়াল মাদ্রিদ মানেই গ্যালাকটিকোদের ঝলক। কিন্তু এবারের দলটা শুধু তারায় ভরা নয়, যেন মেশিনের মতো নিখুঁত। নতুন মৌসুমে দ্বিতীয় ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলল। ওভিয়েদোকে ৩-০ উড়িয়ে দিয়ে রিয়ালের নিশানা উঁচিয়ে ধরলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা। সেই সাথে মাস্তান্তুয়ানো বুঝিয়ে দিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

রিয়াল মাদ্রিদ মানেই গ্যালাকটিকোদের ঝলক। কিন্তু এবারের দলটা শুধু তারায় ভরা নয়, যেন মেশিনের মতো নিখুঁত। নতুন মৌসুমে দ্বিতীয় ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলল। ওভিয়েদোকে ৩-০ উড়িয়ে দিয়ে রিয়ালের নিশানা উঁচিয়ে ধরলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। সেই সাথে মাস্তান্তুয়ানো বুঝিয়ে দিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করেছে জাবি আলোনসোর শিষ্যরা। বল দখল, গতিশীল আক্রমণ, পাসিং—সবকিছুতেই রিয়াল ভাইব। তবে কাঙ্ক্ষিত গোল ধরা দিচ্ছিল না তখনও। অপেক্ষার অবসান হলো ৩৭ মিনিটের মাথায়। আর্দার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ফিনিশে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপ্পে। একেবারে শার্প শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। তবে প্রথমার্ধের বাকিটা সময় জুড়ে আক্রমণ চালালেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি রিয়াল।

বিরতির পরও একই ছবি। পুরো আধিপত্য নিয়ে খেলছিল আলোনসোর দল। ভালভেরদের দুটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আবার একবার গোলরক্ষকের গ্লাভসে আটকে যায়। এই সময়ে সমতা ফেরানোর মতো সুযোগ পেয়েছিল ওভিয়েদো। ৮১ মিনিটে সিবোর লং-রেঞ্জ শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ভাগ্য সঙ্গ না দেওয়ায় গোলশূন্যই থেকে যায় স্বাগতিকরা।

 

ঠিক দুই মিনিট পর ভিনির বানানো বলে এমবাপ্পের নিখুঁত ফিনিশিং। বল খুঁজে নেয় জালের দেখা। রিয়ালের ২-০ লিড। এমবাপ্পের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ এলেও ওভিয়েদোর গোলরক্ষকের দক্ষতায় পরিপূর্ণতা আসেনি।

রিয়ালের তৃপ্তি মেটেনি তখনও। যেভাবে ডমিনেট করে খেলেছে তাতে গোলের সংখ্যাটা নেহাতই বেমানান। অতিরিক্ত সময়ে সেই পূর্ণতাই এনে দিলেন ভিনি জুনিয়র। ম্যাচ শেষে ৩-০ ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

এই রিয়াল মাদ্রিদ একটু বেশিই ভয়ঙ্কর। তারা এখনও আগের মতোই গতিময়, বজ্রগতিতে ম্যাচে রাজত্ব কায়েম করে, মুহূর্তেই পাল্টে ফেলতে পারে ম্যাচের চিত্র। এমবাপ্পে এখনও প্রতিপক্ষের করা ভুলকে শাস্তি দিতে সময় নেন না।

তবে এসবের সাথে যে যোগ হয়েছে আরও এক নতুন বৈশিষ্ট্য—বল দখল রেখে খেলা, নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। মাত্র দুই ম্যাচে তরুণ তুর্কি মাস্তান্তুয়ানো নিজের প্রতিশ্রুতির সবটুকু রক্ষা করেছেন। রদ্রিগো যতটুকু সময় মাঠে থাকছেন কাজে লাগাচ্ছেন, ভিনির থেকে আসছে কামব্যাকের মানসিকতা। সব মিলিয়ে এই রিয়াল প্রতিপক্ষের জন্য হুমকির নাম। এখন শুধু প্রশ্ন—অক্টোবর-নভেম্বরের ফর্মটা যদি আরও চূড়ায় ওঠে, তবে ইউরোপে এই রিয়ালকে থামাবে কে?

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link