যতক্ষণ পর্যন্ত মুহাম্মদ ওয়াসিম ছিলেন তরীর মাস্টার, ততক্ষণ অবধি সঠিক পথেই ছিল আরব আমিরাত। কিন্তু তার বিদায়ের পরই ঝড়ের কবলে মরুর তরী। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশাল পরাজয় হয় তাদের সঙ্গী। এশিয়া কাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজটি ছিল প্রস্তুতির মঞ্চ। আর সেই সিরিজেও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে এখন মেলাতে হবে ফাইনাল খেলার কঠিন সমীকরণ।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রি-দেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শারজাহতে টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম। তবে সেই সিদ্ধান্ত খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি তাদের জন্যে। কেননা আফগানিস্তান স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলে ১৮৮ রানের বেশ বড়সড় সংগ্রহ।
সেদিকুল্লাহ অটলের পর ইব্রাহিম জাদরানও তুলে নেন অর্ধশতক। তবে আরব আমিরাতের হাতের নাগাল থেকে সংগ্রহ দূরে সরিয়ে নেন মূলত করিম জানাত, তাকে সঙ্গ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এই দুই জনের আগ্রাসী ক্যামিওতে সংগ্রহ বাড়ে আফগানিস্তানের। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কেউই হয়ত বিশ্বাস করেনি আরব আমিরাত ম্যাচ জিতে নেবে।

কিন্তু একজন বিশ্বাস করতে চাইলেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মোটামুটি শক্তিধর দলই বলা যায় আফগানদের। তাদের বিরুদ্ধে জয়ের দুঃসাহস দেখালেন ক্যাপ্টেন ওয়াসিম। ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে তিনি রান তুলতে থাকেন, আফগানিস্তানের বোলারদের মনে ভয় ধরিয়ে দেন। প্রায় ১৮১ স্ট্রাইকরেটে ১৮৯ রানের লক্ষ্যমাত্রার পানে ছুটতে থাকেন ওয়াসিম।
তার সেই জয়ের তাড়না অনুপ্রাণিত করে রাহুল চোপড়া। তিনিও ওয়াসিমকে সঙ্গ দিতে থাকেন। কিন্তু তাদের সেই জুটি বেশিদূর আর এগোতে পারেনি। অধিনায়ক ওয়াসিম ৩৭ বলে ৬৭ করে বিদায় নিলে আরব আমিরাতের জয়ের স্বপ্ন আরও খানিকটা ফিঁকে হয়ে যায়। যদিও শেষ অবধি রাহুল ঠিকই অপরাজিত থেকেছেন ৩৫ বলে ৫২ রান করে। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিপাকে পরে যায় আরব আমিরাত। ২০ ওভার শেষে ১৫০ রানেই থামে স্বাগতিকদের লড়াই। এই পরাজয়ে টেবিলের তলানিতে এখন আরব আমিরাত। পরবর্তী দুই ম্যাচে জয় পাওয়া তাদের জন্যে রীতিমত আকাশকুসুম স্বপ্ন। কেননা প্রতিপক্ষ যে সেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তান।












