টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন বল হাতে একজন স্পিনারের দেখা পাওয়া এখন আর অস্বাভাবিক নয়। সবচেয়ে বেশি ওঠে সম্ভবত ফিঙ্গার স্পিনারদের হাতে। লেগস্পিনারদের সাধারণত বাঁচিয়ে রাখা হয় মাঝের ওভারগুলোর জন্য—যখন বল খানিকটা পুরোনো হয়, তখনই তারা বেশি কার্যকর। কিন্তু, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যামুয়েল বদ্রি ছিলেন ব্যতিক্রম।
ত্রিনিদাদের এই লেগস্পিনার নিয়মিতই ওপেনিং ওভার করতেন। এর পেছনে ছিল তার অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁত লাইন-লেংথ। বেশিরভাগ লেগস্পিনারের জন্য নতুন বল সামলানো কঠিন—একটি খারাপ ডেলিভারি চাপ বাড়ায়, নষ্ট করে দিতে পারে পুরো ওভার। কিন্তু বদ্রির কাছে সেটা ছিল একেবারেই সহজাত।
তাঁর পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে পুরো ব্যাপারটা। মোট ৫২ টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি খেলেছেন, এর মধ্যে ২৮ ম্যাচেই ওপেনিং করেছেন বল হাতে। অর্থাৎ ৫৪ শতাংশ ম্যাচে নতুন বলের আস্থা ছিল বদ্রির উপর—যা লেগ স্পিনারের ক্ষেত্রে বিরলতম ঘটনা।

এই ২৮ টা ম্যাচ ছিল, বদ্রির ক্যারিয়ারের প্রথম ২৮ টা ম্যাচ। এরপরই যখন তাকে নিয়ে পরিকল্পনা পাল্টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তখনই তিনি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে শুরু করেন।
আজ যখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে লেগ-স্পিনারদের প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে রশিদ খান, অ্যাডাম জাম্পা, আদিল রশিদ, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, ইমরান তাহিরদের নাম, তখন অনেকেই ভুলে যান বদ্রিকে। অথচ, এই তারকারা আলো ছড়ানোর অনেক আগে বদ্রিই পথ দেখিয়েছিলেন, এমনকি তিনি উঠেছিলেন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও।
তাহলে কি বলা যায় — স্যামুয়েল বদ্রিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে আন্ডাররেটেড লেগ স্পিনার? হয়তো! কারণ, সেই সময় তো দূরের কথা, পরবর্তীয় সময়ে লেগ স্পিনাররা পাওয়ার প্লে-তে এতটা গুরুত্ব কখনও পাননি। আবার এই স্যামুয়েল বদ্রিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটও সেই অর্থে ব্যবহারই করতে পারেনি।

আইপিএলে তিনটি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন কেবল ১২ টি ম্যাচ। বিপিএলে দুই দলের হয়ে খেলেন চার ম্যাচ। এর চেয়ে বরং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) ও বিগ ব্যাশে তাঁর কদর ছিল বেশি। বিগ ব্যাশে মাত্র ২২ রান দিয়ে পাঁচ উইকেটও নেন। সেটাই তাঁর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।
বদ্রির ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সময় কেটেছে বাংলাদেশে। সেটা ছিল ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই আসরে পাঁচ ম্যাচ খেলে ১১ উইকেট নেন বদ্রি। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সি পড়েন ২০১৮ সালে, সেই ম্যাচটাও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে।
মজার ব্যাপার হল, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি শিক্ষকতা করতেন। ত্রিনিদানের ব্যারাকপুর ইস্ট সেকেন্ডারি স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক ছিলেন তিনি। ক’জন পিটি শিক্ষকই বা আইসিসির বোলারদের টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের চূড়ায় উঠতে পারেন!











