গড়পরতা দিনেও মোমেন্টাম ফেরানোর ওস্তাদ সাকিব

বার্বাজোড রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচটা জিততেই হতো সাকিবদের। এমন এক ম্যাচে বেশ সাদামাটা সাকিব আল হাসান। কিন্তু এক কার্যকর শটে প্রভাব ফেলেছেন ম্যাচের ফলাফল।

হেলমেটের স্ট্র্যাপটা এখনও কামড়ে ধরে রাখেন সাকিব আল হাসান। এভাবেই তিনি ব্যাটিং করে অর্ধশতক করেছিলেন গত ম্যাচে। অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স সেই ম্যাচটা অবশ্য জিততে পারেনি। তাইতো বার্বাজোড রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচটা জিততেই হতো সাকিবদের। এমন এক ম্যাচে বেশ সাদামাটা সাকিব আল হাসান। কিন্তু একটি কার্যকর শটে প্রভাব ফেলেছেন ম্যাচের ফলাফলে।

অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্তে নেয়। একেবারে শুরুতেই এই সিদ্ধান্ত পরিণত হতে পারতে সঠিক সিদ্ধান্তে। শূন্যরানে ব্রেন্ডন কিংয়ের ক্যাচ মিস না হলে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্রেন্ডন কিংয়ের সেই ক্যাচ মিস বেশ ভুগিয়েছে সাকিবদের।

সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি খোদ সাকিব আল হাসানও। তিন ওভারে সাকিবের খরচা ৩৩ রান। ওভারপ্রতি ১১ রান বিলিয়েছেন তিনি। অবশ্য এই অংক সেখানেই থেমেছে বরং নিজের ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে সাকিবের চিরায়ত বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের কারণে।

লাইন, লেন্থের ভ্যারিয়েশন আর ব্যাটারের উদ্দেশ্য পড়ে বল ছুড়েছেন সেই ওভারে। মাত্র ৬ রান নিতে পেরেছিলেন বার্বাডোজের ব্যাটাররা। বাকি দুই ওভার রীতিমত ভুলে যাওয়া উত্তম। প্রথম ওভারে ১২ রান, তৃতীয় ওভারে ১৫। কোন উইকেটের দেখাও পাননি সাকিব।

অলরাউন্ডার হওয়ার সুবিধা তো আজীবন পেয়ে এসেছেন সাকিব। কখনো বল হাতে দিন খারাপ গেলে, ব্যাট হাতে দলকে পুষিয়ে দিয়েছেন। ফ্যালকন্স টিম ম্যানেজমেন্ট সাকিবের কাছ থেকে এদিন সম্ভবত তেমন কোন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রত্যাশা করছিল। কিন্তু সাকিব এবারও হতাশ করলেন।

ব্যাট হাতে টিকে ছিলেন মোটে ১২টি বল। এর মধ্যে ছয়টি বলেই কোনপ্রকার রান আসেনি তার ব্যাট থেকে। উইকেটে নেমে বলের গতিবেগের সাথে খাপ খাওয়াতে সাকিবের এখন খানিকটা সময় প্রয়োজন। গতির বলে তার চোখের দূর্বলতা এখনও প্রকট। তবুও সময়-সুযোগ আর নিজের স্ট্রাইকিং জোনে বল পেলে সাকিব তা বাউন্ডারি ছাড়া করেন দ্বিধাহীনভাবে।

ক্রিস গ্রিনের ফুলার বলটাকে ঠিক সাইটক্রিনের সামনে উড়িয়ে ফেলেছেন সাকিব। প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সাকিবের ওমন ব্যাটিং তার কিংবদন্তি সত্ত্বার পরিচয় বহন করে। তবে আগের দিনের মত এই আগ্রাসন দীর্ঘাস্থায়ী হয়নি। কিন্তু ১৪ বলের বাউন্ডারি খরা পরে সাকিবের ওই বাউন্ডারিই অবশ্য অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার জড়তা ভেঙেছে। শেষ অবধি রোমাঞ্চ ছড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে।

ব্যাটে-বলে গড়পরতা দিন পার করলেও, মৃদু ইম্প্যাক্ট ঠিকই রেখেছেন সাকিব আল হাসান। ১২ ওভার ২ বলের সময়ে ব্যাটিংয়ে আসেন সাকিব। সেই সময় দলের রান ছিল ১১০। সেই সময়ে বাউন্ডারির সেই ছোট্ট খরা কাটিয়ে উঠতে না পারলে, শেষ অবধি হয়ত আর জয়ই পাওয়া হত না ফ্যালকন্সের।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link