এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই ভারতের নিখুঁত পারফরম্যান্স। আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে হারিয়ে +১০.৪৮ নেট রান রেটে টেবিলের প্রথম আসন তাদের দখলে। তবে এত বড় জয় নিয়েও কি স্বস্তিতে থাকার উপায় আছে টিম ইন্ডিয়ার? পাকিস্তান মহারণের আগে যে তিন জায়গা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি তাদের।
আমিরাতের বিপক্ষে মাত্র ৪.৩ ওভারেই খেলা শেষ করেছে ভারত। বিপরীতে এক উইকেট খোয়া গেছে। অর্থাৎ পুরো ব্যাটিং অর্ডার এখনও রহস্যের গোলকধাঁধার মধ্যে রয়েছে। আর সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা তিলক ভার্মা আর সুরিয়াকুমারের ব্যাটিং অর্ডার ঘিরে।
৪৮ রানের মাথায় অভিষেক শর্মা আউট হওয়ার পর সবাই ভেবেছিল তিলক নামবেন তিন নম্বরে। কিন্তু সেখানে ব্যাট করতে আসেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার। অথচ তিলকই গত কয়েক মাস ধরে ভারতের হয়ে এই জায়গায় নিয়মিত ব্যাট করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর দুইটি টানা সেঞ্চুরি এসেছে ৩ নম্বরে। সবশেষ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও সব ম্যাচে নেমেছিলেন ওয়ান ডাউনে।

অন্যদিকে ২০২৫– এ মাত্র দু’বার তিন নম্বরে খেলেছিলেন সুরিয়াকুমার যাদব। তবে এক ইনিংসে মাত্র শূন্য আর অন্যটাতে ১৪ রানেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাই তো প্রশ্ন উঠেছে তবে কি কেবল ফর্মে ফেরাতেই তাকে ওপরে তোলা হয়েছিল, নাকি নতুন কৌশলে হাঁটছে ভারত।
পরের সমস্যাটা সাঞ্জু স্যামসনকে ঘিরে। শুভমান স্কোয়াডে ফেরার পর ধারণা করা হচ্ছিল স্যামসনকে রাখা হবে না একাদশে। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট তাঁকে জায়গা দিয়েছে মিডল অর্ডারে। তবে আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বোঝা গেল না স্যামসনের প্রকৃত ভূমিকা আসলে কোথায়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কি তিনি হার্দিক পান্ডিয়ার আগেই ব্যাট করবেন, নাকি ফিনিশারের ভূমিকায় নামবেন নিচের দিকে? নাকি কম্বিনেশনের মারপ্যাচে বড় ম্যাচে জায়গা ছাড়তে হবে?

সর্বশেষ ধোঁয়াশাটা বোলিং আক্রমণ নিয়ে। আমিরাতকে ভারতীয় বোলাররা কোনো প্রকার সুযোগই দেয়নি এটা যেমন সত্য, তেমনই ডেথ ওভারে তাদের কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি। কুলদীপ যাদবের ঘূর্ণিতে চার উইকেট, আর মোট ছয়টি উইকেটই গেছে স্পিনারদের ঝুলিতে। কিন্তু যদি ম্যাচটা শেষের দিকে গড়াত, তখন সুরিয়াকুমার ভরসা করতেন কাকে?
দলের প্রাইম বোলার জসপ্রিত বুমরাহকে ছয় ওভারের মধ্যে তিন ওভার করিয়েছিলেন সুরিয়া। একাদশে ছিলেন না আর্শদীপ সিং। যদি কোনো কারণে আমিরাতের ব্যাটাররা টিকে থাকতেন, আর ম্যাচ গড়াত শেষের দিকে, তবে ডেথ ওভারে অধিনায়ক সুরিয়া কার হাতে বল তুলে দিতেন? বুমরাহর হাতে তখন থাকত মাত্র একটি ওভার। ফলে ডেথ ওভার নিয়ে ভারতীয় ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা কী, সেটা এখনো অনিশ্চিত।
তাই তো আমিরাতের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয় সব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে পারেনি। বরং পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেই বোঝা যাবে, ভারতের মিডল অর্ডার থেকে শুরু করে ডেথ বোলিং—সবকিছু কতটা প্রস্তুত আছে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য।












