পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ‘ইনসাইড’ স্ট্যাটেজি

সব মিলিয়ে ভারতের জয়ের ছক খুবই পরিষ্কার — প্রথম বল থেকে আঘাত হানা, মাঝখানে স্পিনে দমবন্ধ অবস্থা আর শেষে ব্যাট-বল দুদিকেই আধিপত্য।

পাকিস্তানের দুর্বলতায় আঘাত হানতে প্রস্তুত হচ্ছে ভারত। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে উড়িয়ে দিয়েছে সুরিয়াকুমারের। তবে মূল লড়াই সামনে, প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান। আর সেই ম্যাচকে ঘিরেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু — কোথায় কোথায় পাকিস্তানকে চাপে ফেলা সম্ভব, আর কীভাবে ভারত সেই দুর্বল জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারে।

পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি সাম্প্রতিক সময়ে একেবারেই ভরসা দিতে পারেনি। সায়িম আইউব আর শাহিবজাদা ফারহান বারবার পাওয়ার প্লের ভেতরেই ভেঙে পড়ছেন, যার ফলে চাপ বাড়ছে মিডল অর্ডারে। ভারতের পরিকল্পনা তাই শুরু থেকেই আক্রমণ।

আর্শদীপ সিং একাদশে ফিরলে তার স্বাভাবিক সুইং দিয়ে বাঁহাতি সায়িমকে বাইরে টানবেন, অন্যদিকে বুমরাহর বাউন্স আর ইয়র্কারের মিশ্রণে ফারহানকে অস্বস্তিতে ফেলবেন। ভারত জানে, শুরুতেই দুই উইকেট ফেলতে পারলে পাকিস্তান কার্যত ব্যাকফুটে চলে যাবে।

মাঝের ওভারে চিত্র আরও উদ্বেগজনক পাকিস্তানের জন্য। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাম্প্রতিক সিরিজেই দেখা গেছে তাদের স্পিন বিপর্যয়। কুলদীপ যাদব আর বরুণ চক্রবর্তীকে কাজে লাগিয়ে ভারত চাইবে রানরেট আটকে দিতে। সঙ্গে উইকেটও তুলে নিতে পারলে ভারত বসবে চালকের আসনে। এখানে পাকিস্তানের সীমাবদ্ধতা এতটাই স্পষ্ট যে ভারত যদি সামান্য শৃঙ্খলাও বজায় রাখে, ম্যাচ তখনই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে।

শেষের ওভারগুলোয়ও পাকিস্তানের অবস্থা প্রায় একই। কখনও ব্যাটিং, কখনও বোলিং—দুটোতেই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তাদের সেরা বোলার হারিস রউফও তাল হারাচ্ছেন কখনও কখনও, ফলে প্রতিপক্ষ সহজেই রান তুলছে।

ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ জানে, উইকেট হাতে রাখলে শেষ পাঁচ ওভারে তাণ্ডব চালানো সম্ভব। অভিষেক শর্মা, শুভমান গিল কিংবা সাঞ্জু স্যামসন শুরুতে গতি আনবেন, এরপর সুরিয়াকুমার কিংবা তিলক ভার্মারা ইনিংস ধরে রেখে ফিনিশারদের জন্য মঞ্চ তৈরি করবেন।

শেষ চার ওভারেই আসল পরীক্ষা। সেখানে পরিকল্পনা বুমরাহ আর আর্শদীপকে দিয়ে পুরো ম্যাচের লাগাম টানবে ভারত। মাঝে মাঝে হার্দিকের ভ্যারিয়েশন ঢুকে যাবে, যেন ব্যাটসম্যানরা ছন্দ খুঁজে না পান। লক্ষ্য একটাই—নিজেদের ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে ৫০-এর বেশি রান তোলা আর পাকিস্তানকে আটকে রাখা ৩০–৩৫-এর মধ্যে।

হিসেবটা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন হবে নির্মম। সব মিলিয়ে ভারতের জয়ের ছক খুবই পরিষ্কার — প্রথম বল থেকে আঘাত হানা, মাঝখানে স্পিনে দমবন্ধ অবস্থা আর শেষে ব্যাট-বল দুদিকেই আধিপত্য। গৌতম গম্ভীরের অধীনে দলটা যেভাবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে, তাতে পাকিস্তানের দুর্বলতাই হয়ে উঠতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ১৪ সেপ্টেম্বরের মঞ্চে তাই ভারত নামবে শুধু জয়ের প্রত্যাশা নয়, প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে এগিয়ে যাওয়ার মিশন নিয়ে।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link