ছয় ক্যাচ মিস ও একটি নো-বল বোনাস

ম্যাচ শেষে ক্যাচ মিসের আফসোফ থাকবেই। সাথে ১৮ তম ওভারের সেই ভয়ঙ্কর নো-বল তাঁদের বুকে ছুড়ি হয়ে আঘাত হানে। এমন ‘অপরাধের’ বোঝা নিয়ে জেতা যায় না কোনো ম্যাচ। আর সেখানেই শ্রীলঙ্কা বেঁচে গেল।

হংকং দলের লড়াইটা ছিল চোখে পড়ার মতো। একেবারে বুক চিতিয়ে লড়েছে তারা। তবে, ম্যাচ শেষে ক্যাচ মিসের আফসোফ থাকবেই। সাথে ১৮ তম ওভারের সেই ভয়ঙ্কর নো-বল তাঁদের বুকে ছুড়ি হয়ে আঘাত হানে। এমন ‘অপরাধের’ বোঝা নিয়ে জেতা যায় না কোনো ম্যাচ। আর সেখানেই শ্রীলঙ্কা বেঁচে গেল।

ম্যাচে হংকং চায়না ছয়টা ক্যাচ ফেলেছে। ২০০৭ সাল থেকে টি-টোয়েন্টির যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায়, সেখানে এটা এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্যাচ মিসের নজীর। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২ টা ক্যাচ ধরার বিপরীতে মাত্র ১১ ক্যাচ মিস করেছে ইয়াসিম মুর্তজার দল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁদের এই বদান্যতা বেশি দেখা গেছে পাথুম নিশাঙ্কার বিপরীতে।

৪৪ বলে ৬৮ রান করে এই ওপেনার ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেছেন হংকংকে। সেই রানটা হতই না, যদি না চার বার তাঁর ক্যাচ মিস হত। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আর মাত্র দু’জন এমন ভাগ্যবান ব্যাটার আছেন, যারা একই ম্যাচে এভাবে চারটা লাইফ পেয়েছেন। সেখান থেকেই বোঝা যায় পাথুম নিশাঙ্কা কতটা সৌভাগ্যবান।

তবু শুরুর গল্পটা ছিল একেবারে ভিন্ন। ব্যাট হাতে ভরসা যুগিয়ে গেছেন আনশুমান রাঠ কিংব নিজাকাত খান। পরে বোলিং করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতে কুশল মেন্ডিসকে তুলে নিয়ে লঙ্কান ওপেনারদের আটকে রেখেছিল হংকং। নিশাঙ্কা কিন্তু নিজের ফর্ম ধরে রেখেছিলেন। আরেকটি অর্ধশতক তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে প্রায় গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েই ফেলেছিলেন তিনি।

কিন্তু, তাঁর বিদায়ের পর কুশল পেরেরার আউট—এখান থেকে জেগে ওঠে হংকং, পাল্টা লড়াই করে। লঙ্কান অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা আর কামিন্দু মেন্ডিসকে দ্রুতই সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে এনেছিল তারা।

তবে, শেষ হাসি হাসলেন হাসারাঙ্গা। ছোট্ট কিন্তু ঝড়ো ক্যামিওটিই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিল। সাথে যোগ হল ১৮ তম ওভারের ওভার স্টেপিংয়ের জন্য পাওয়া নো-বল। যেখানে ইয়াসিম মুর্তজার বিপক্ষে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ অনেকটাই বের করে আনেন হাসারাঙ্গা।

হংকং গর্ব করতে পারে নিজেদের পারফরম্যান্সে। সাহস, লড়াই—সবই ছিল। শুধু ‘ফিল্ডিং’ নামক জায়গাটাই আবুধাবির রাত মাটি করেছে তাদের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ছোট ছোট ভুলই বড় ব্যবধান গড়ে দেয়।

Share via
Copy link