‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ’, অথচ সেই মামা বাড়িই যান না সাইফ হাসান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলকে জিতিয়েছেন, খেলেছেন অনবদ্য এক নক। তবে মামা বাড়ির বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের জন্য বাড়তি তাড়না ছিল না।
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মামা বাড়ির প্রসঙ্গ উঠে এলো। সাইফ বললেন, ‘আমি শ্রীলঙ্কায় আমার মায়ের পরিবারের কাছে যাইনি, তাই আমি জানি না। তবে আজকের ইনিংসটা বিশেষ ছিল। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। আশা করি ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারব।’
মামা বাড়ির সাথে সাইফের খুব বেশি সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। সে সুযোগও অবশ্য ছিল না। ছেলেবেলায় বেড়ে উঠেছেন মধ্যপ্রাচ্যের আলো-বাতাসে। বাবা-মা পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন। তাই তো মায়ের শ্রীলঙ্কার মাটিতে আর পা দেওয়া হয়নি।

বাবার শেকড়ের টানে ১০ বছর বয়সে পরিবার-সমেত বাংলাদেশে আসেন সাইফ। ক্রিকেটকে সঙ্গী করে বড় হতে থাকেন সাইফ। আর মায়ের মুখেই হয়তো শুনতে থাকেন নানাবাড়ির কথা।
সালটা ২০১৬, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলতে প্রথমবার শ্রীলঙ্কায় পা রাখেন সাইফ। নানা বাড়ির সবাই খবর পেয়ে দেখতে আসেন তাঁকে। ওটাই ছিল প্রথম সাক্ষাৎ। এরপর অনেকবার এভাবেই দেখা হয়েছে, তবে মামা বাড়ি যাওয়া হয়নি কখনো।
এশিয়া কাপে সেই মামা বাড়ির দেশের সাথে প্রথমবারের মতোই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামলেন। সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৬১ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতানোর নায়ক বনে গেলেন।

শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চের মিশেলে তৈরি হওয়া এক একটা গল্প। এবার সেই গল্পের ছোট্ট অংশ হলেন সাইফ। পরেরবার সুযোগ মিললে মামার বাড়ি আম কুড়াতে যাবেন তো তিনি?
Share via:











