সেলিব্রেশনের দ্বৈরথে ঢাকা পড়ে গেছে আবরার আহমেদের দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরমেন্স। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা আবরারের সেলিব্রেশন কপি-পেস্ট করার জবাব দিতে পারলেও, পারফরমেন্সের জবাবটা দিতে পারলেন না। তা হয়ত সম্ভবও ছিল না তার পক্ষে। আবরার বল হাতে এদিন ছিলেন অনবদ্য।
চার ওভারে মাত্র আট রান খরচা করেছেন আবরার আহমেদ। অবিশ্বাস্য ইকোনমি রেট। আজকাল তো টেস্ট ক্রিকেটেও বোলাররা এমন কৃপণতা বজায় রাখতে পারেননা। আবরার প্রায় সেই অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার মত বোলারের এই জ্বলে ওঠা পাকিস্তানকে দিয়েছে নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা।
শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান মুখোমুখি, যে হারবে সেই ছিটকে যাবে টুর্নামেন্ট থেকে। এমন সমীকরণের সামনে দূর্দান্ত পারফরমেন্সের বাতি জ্বালিয়েছেন আবরার। মিডল ওভারগুলোতে শ্রীলঙ্কার রানের ধারা একেবারে শুকিয়ে ফেলেছিলেন। ৯-১৫ এই সময়কালে টানা চার ওভার করেছেন আবরার। প্রথম ওভারে তার খরচা তিন রান।

এরপরের ওভারে দিলেন মাত্র দুই। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে তিনি পেলেন তার একমাত্র উইকেটের দেখা। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে একেবারে ক্লিন বোল্ড করেন আবরার। এরপরই লঙ্কান বোলারের উদযাপনকে কপি করেন তিনি। সেই ওভারে তার খরচ আরও দুইটি রান। তিন ওভার শেষে মোটে সাত রান খরচ আবরার আহমেদের। পাশাপাশি লঙ্কার রান করার শেষ সুযোগটুকুও কেড়ে নিয়েছেন হাসারাঙ্গাকে আউট করে।
ব্যক্তিগত শেষ ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে আবরার শেষ করেন তার বোলিং স্পেল। ভীষণ চাপে থাকা শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডারকে মাথা সোজা করে দাঁড়াবার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেননি। তার বিরুদ্ধে তটস্থ থাকতে হয়েছে লঙ্কান ব্যাটারদের। তাতে করে রান তোলার চাপ বেড়েছে লঙ্কানদের কাঁধে। আর সেই চাপের সম্পূর্ণ কৃতীত্ব আবরার আহমেদেরই প্রাপ্য।
এদিন প্রতিপক্ষে থাকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা আবরারে চাইতে উইকেট নিয়েছেন বেশি। দুই উইকেট তুলে নিয়ে আবরারের সেলিব্রেশন কপির জবাব তিনি দিয়েছেন বটে। কিন্তু পাকিস্তানের রানের নদীতে বাঁধ হয়ে দাঁড়াতে পারেননি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। চার ওভারে হাসারাঙ্গার খরচা ২৭ রান। ওই ১৯ রানই বরং পাকিস্তানের জয়কে করেছে বাস্তবসম্মত ও ত্বরাণ্বিত।












