টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে একসময় তিনি ছিলেন হাসির খোরাক। সমালোচনা, ট্রল—সবই তার পিছু ছাড়েনি। অথচ আজ সেই সাইফ হাসানই বাংলাদেশকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বদলে যাওয়া সাইফ এখন টি-টোয়েন্টি দলের ছক্কা মানব, পাওয়ার হিটিংয়ের প্রতিশব্দ। আফগানিস্তান কিংবা ভারতের স্পিন আক্রমণ—যে চ্যালেঞ্জই হোক, জবাব দেওয়ার নাম এখন সাইফ হাসান।
অথচ, পুরোদস্তর টেস্ট ব্যাটার হিসেবেই শুরু হয় সাইফের ক্যারিয়ার। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন, ভবিষ্যতের টেস্ট ওপেনার বলেই ধরা হতো। বল ছেড়ে দেওয়ার ধৈর্য, দীর্ঘ ইনিংস খেলার মানসিকতা—এসবই তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। জাতীয় দলের হয়ে ছয় টেস্টও খেলে ফেলেছেন।
কিন্তু শান্ত, ধীরস্থির ব্যাটিংয়ের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভিন্ন রূপ। বড় শট খেলার ক্ষমতাও ছিল তার, যদিও সেটা শীর্ষ পর্যায়ে খুব কমই প্রকাশ পেয়েছে। সেই শট খেলার প্রবনতা থেকেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় ২০২১ সালে, আর সেখানেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। দ্রুতই দল বাদ পড়তে হয় দল থেকে।

কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়া তার স্বভাবে নেই। নিজের দুর্বলতাগুলো খুঁজে নিয়ে নতুন করে ঘষেমেজে খেলায় এনেছেন পরিবর্তন। চার বছরের অপেক্ষার পর আবার জাতীয় দলে। নেদারল্যান্ডস সিরিজের পর এশিয়া কাপে সুযোগ পেলেন, আর যত ম্যাচ খেলেছেন, তত রান করেছেন। শ্রীলঙ্কা আর ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই হাফ সেঞ্চুরি তার বদলে যাওয়া রূপকথার সাক্ষী।
রহস্যটা কোথায়? তিনি নিজের খেলায় নতুন কৌশল যোগ করলেন। অফসাইডে সবসময় দক্ষ ছিলেন, কিন্তু লেগসাইডে সীমাবদ্ধতা কাটাতে শুরু করলেন কঠোর অনুশীলন। ব্যালান্স, টাইমিং, প্লেসমেন্ট নিয়ে কাজ করেন স্থানীয় কোচদের সাথে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) পারফরম করেন। শর্ট বল মোকাবেলায় দিয়েছেন বাড়তি মনোযোগ। লেগ সাইডে এখন আর ফ্লিক করে ছক্কা হাকাতে সাইফ দ্বিতীয়বার ভাবেন না।
এখন তার ব্যাটিংয়ে বাড়ছে পরিপক্বতা। শুধু বড় শট নয়, গ্যাপ বের করা, বোলারের গতিকে কাজে লাগানো, স্ট্রাইক রোটেশন—সবকিছু মিলিয়ে দলের চাপ কমাতে পারছেন। আগে শটের রেঞ্জ কম ছিল, সেই ঘাটতি পুষিয়েছেন। তাতে যোগ হয়েছে স্বাধীনতা আর আত্মবিশ্বাস।

টেস্ট ব্যাটার সাইফ হাসান এখন আত্মবিশ্বাসী এক মারমুখী ব্যাটার। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে আলো দেখানোর মতো সম্ভাবনা তাঁর আছে। তাঁর ব্যাটিং দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন সঞ্জয় মাঞ্জরেকার, রমিজ রাজা কিংবা হার্ষা ভোগলে। সাইফ হাসান নিজেকে বদলাতে পেরেছেন, সেই দিনবদলের সুফল দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।










