একটা জেতা ম্যাচকে কী করে হাতছাড়া করতে হয় তা হাতে-কলমে দেখাল বাংলাদেশ। কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিং প্রদর্শনীতে পাকিস্তানকে রীতিমতো জয় উপহার দিল জাকের আলীর দল। অগত্যা ফাইনাল খেলার হাতছানি উপেক্ষা করে ১১ রানের পরাজয় নিয়ে এবার ঘরে ফেরার পালা।
টস কয়েনটা আজও পড়ল বাংলাদেশের পক্ষেই। প্রত্যাশিত ভাবেই সিদ্ধান্ত আসলো ফিল্ডিং করার। একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামল বাংলাদেশ, তবে বড় ম্যাচে ফেরা হলো না লিটন দাসের।
ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানকে শুরুতেই কোনঠাসা করে দিলেন তাসকিন আহমেদ, প্রথম ওভারেই ফেরালেন শাহিবজাদা ফারহানকে। দ্বিতীয় ওভারেই শেখ মেহেদীর আঘাত, রানের খাতা খোলার আগেই ফিরতে হলো সায়িম আয়ুবকে। বাংলাদেশের জন্য যেন স্বপ্নের মতো শুরু। আর পাওয়ার প্লে শেষে পাকিস্তান তুলল দুই উইকেট হারিয়ে ২৭ রান।

পাকিস্তানের ব্যাটাররা যখন উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করেছে তখনই রিশাদ হোসেন যেন যমদূতের বেশে আবির্ভূত হলেন। ফখর জামান আর হুসেইন তালাতকে তুলে নিয়ে পাকিস্তানের সম্ভাবনার শেকড়টা গোড়া থেকেই ছেঁটে ফেললেন। প্রতিপক্ষের অধিনায়ক সালমান আলী আঘাকে মুস্তাফিজ সাজঘরে ফেরালে ৫০ রানেই আগে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তান শিবির।
এই পর্যন্ত দেখে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ বোধহয় ১১০ রানের আগেই বেঁধে রাখতে পারবে। তবে মাঝের ওভারগুলোতে ক্যাচ মিস আর বোলারদের খাপছাড়া বোলিং সুযোগ করে দেয় পাকিস্তানকে। শেষদিকে মোহাম্মদ হারিসের ৩১ এবং মোহাম্মদ নাওয়াজের ২৫ রানের সুবাদে স্কোরবোর্ডে রান দাঁড়ায় ১৩৫। বল হাতে তাসকিনের তিন এবং রিশাদ-মেহেদী নেন দুটি করে উইকেট।
বাংলাদেশের জন্য ১৩৬ রানের লক্ষ্যমাত্রাটা সহজই ছিল। তবে ব্যাটাররা আবারও সেই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিলেন। শাহীনের শিকার হয়ে পারভেজ হোসেন ইমনকে ফিরতে হলো শুরুতেই। তিনে নামা তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে এলেন, দলের চাপ বাড়ালেন, শেষটাতে শাহীনের বলে অপ্রয়োজনীয় শট খেলে হাঁটলেন সাজঘরের পথে। ফর্মে থাকা সাইফ হাসানও আজ ফিরলেন ১৮ রানে। মেহেদী, সোহান, জাকেররা প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও মেটাতে পারলেন না। ১৪ ওভার শেষে ৭৩ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে তখন ছিটকে গেছে।

বাকি সময়টা একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালান শামীম পাটোয়ারী। তবে ব্যক্তিগত খাতায় ৩০ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে, আর বাংলাদেশের সম্ভাবনার আলোটা একেবারেই নিভে যায়। শাহীন শাহ আফ্রিদি আর হারিস রউফের বোলিং তাণ্ডব একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে। দুজনেই নেন তিনটি করে উইকেট, আর দলকে জেতান ১১ রানের ব্যবধানে।
বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার যেন ব্যাট করতেই জানে না। এমন অপরিপক্ব ব্যাটিং লাইনআপ দিয়ে আর যাই হোক বড় মঞ্চে ম্যাচ জেতা যায় না। এই জয়ে পাকিস্তানের সামনে খুলে গেল ফাইনালের দরজা, এবার করতে হবে ভারতের মোকাবিলা। আর ব্যর্থতা সঙ্গী করে বাংলাদেশের এবার ফেরার পালা।











