হারে রে রে, ডাকাত এলো রে। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে তাড়াহুড়োতে অন্তত মনে হয়েছে আরব দেশে ডাকাত পড়েছে। আলিবাবার গুহায় থাকা লুটের সম্পত্তি লুট হয়ে যাবে। তাইতো চট জলদি খেলা শেষে তাড়াতে হবে ডাকাত। এমন অর্থহীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের আর কোন বাখ্যা কি দাঁড় করানো যায়?
রানরেটের কোন হিসেব-নিকেশ নেই। সমীকরণের মারপ্যাঁচ নেই। একেবারে সরল সমীকরণ। স্রেফ জিতলেই হবে। তা শেষ বলের জয় হলেও কোন সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটারদের মস্তিষ্কে কোন অজানা ভয় দানা বাঁধল। শুরু থেকেই দ্রুত ম্যাচ শেষ করার তাড়না লক্ষ্য করা গেল গোটা দলের মাঝে।
এমন না যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ ছাড়ানো। রান তাড়া করতে না পারলে, ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ হবে হাতছাড়া। কোন প্রকার জটিলতা নেই। তবুও বাইশ গজে বাংলাদেশের ব্যাটারদের হ-য-ব-র-ল ব্যাটিং প্রদর্শন। ১২০ বলে স্রেফ ১৩৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা। শিশুতোষ ভুল, আর দায়িত্বহীনতা ছাড়া এই ম্যাচ জেতার কথা অনায়াসে, খুব সহজে।

কিন্তু কিসের কি? পাওয়ার হিটিংয়ের দীক্ষা নিয়ে বড় বড় ছক্কা না হাঁকালে আবার হয় নাকি? বাংলাদেশ তাই প্রতিটা বলে আক্রমণ করতে চাইল। আগ্রাসী ক্রিকেটের একমাত্র বাহক হতে চাইল বাংলাদেশের গোটা ব্যাটিং ইউনিট। আক্রমণ না ছাই! নির্বুদ্ধিতার চূড়ান্ত নিদর্শন। অবান্তর সব শট সিলেকশন, অদ্ভুত সব সিদ্ধান্ত। গেম অ্যাওয়ারনেস যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাতে চলে গেল।
১৩৬ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ হারল ১১ রানে। অর্থাৎ, চাইলেই এই ম্যাচ জয় ছিল সহজ সাধারণ সম্ভাবনা। কিন্তু অসম্ভবকে সম্ভব করাই বাংলাদেশের কাজ। তাওহীদ হৃদয়রা তাই রান আউট থেকে বেঁচে যাওয়ার পরের বলেই খেলে চোখ বন্ধ করা নো লুক শট। নুরুল হাসানদের উপর যেন রাজ্যের চাপ, স্কুপ করতে পারলেই যেন হওয়া যাবে নির্ভার। রিভার্স স্কুপ করতে গিয়ে আউট শামীম হোসেন পাটোয়ারি।
স্ট্যান্ডিং ক্যাপ্টেন জাকের আলী অনিকের আউটস্ট্যান্ডিং শটের দূরত্ব মোহাম্মদ নাওয়াজের তালু পর্যন্ত। পারভেজ হোসেন ইমনদের প্রমাণ করতেই হবে তারা বড় শটের কাণ্ডারি। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে তাই ইনিংসের শুরুতেই তুলে মারতে হবে। অবাস্তব এক ভ্রমের দুনিয়া সাজিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা আরও একবার হতাশার নোনাজলে দিল ডুব সাঁতার। ওই জলে আবেগ ধুয়ে হৃদয় জুড়ে ছড়িয়েছে তিক্ততা। এভাবেও ব্যাটিং করা যায়? আসলে কোন ডাকাত নয়, মনের বিড়ালই খেয়েছে তথাকথিত টাইগারদের।












