‘আমি সবসময়ই একজন ব্লু’ (চেলসি সমর্থক)। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে পা রেখে এমনটিই বলেছিলেন দ্য ‘স্পেশাল ওয়ান’ হোসে মরিনহো। বহুকাল বাদে তিনি ফিরেছিলেন তার চেনা উঠানে। চারিদিকে তখন মরিনহো নামের স্লোগান চলেছে। ঘরে ছেলে বহুকাল বাদে যে ঘরে ফিরেছে। যেখান থেকে অনন্য এক চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন মরিনহো। যার অধীনে চেলসিও হয়ে উঠেছিল বড়।
এবারের প্রত্যাবর্তনেও বেশ উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন তিনি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে। যদিও তিনি ছিলেন প্রতিপক্ষের ডাগআউটে। পর্তুগীজ ক্লাব বেনফিকার নতুন কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন হোসে মরিনহো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে দ্য স্পেশাল ওয়ানের পদধূলি আরও একটিবার পড়েছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে।
চেলসির সাথে মরিনহোর বন্ধনটা বেশ পুরনো। দু’দফা তিনি ছিলেন চেলসির ডাগআউটে। সেই ২০০৪ সালে তিনি প্রথমবারের মত দায়িত্ব নেন চেলসির। এরপর আবার ২০১৪ সালে তিনি ফিরেছিলেন ইংল্যান্ডে। দীর্ঘ এই পথচলায় সমর্থক আর ক্লাবের মাঝে সেতুবন্ধন বনে গিয়েছিলেন হোসে মরিনহো।

তার চরিত্রটাই তো এমন। যেখানেই যান তিনি- সম্মান নিয়ে ফেরেন। বহুকাল পরেও তার অবদান থাকে অমলিন। ভক্তদের হৃদয়ের কোণ থেকে উজ্জ্বল আলোর বিকিরণ হয় প্রতিনিয়ত। তিনিই তো চেলসিকে বিশ্বাস করাতে শুরু করেছিলেন যে, চাইলেই সবকিছু জেতা সম্ভব। হোক সেটা সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, কিংবা ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ। তাইতো তিনি ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’।
সেই হোসে মরিনহো ফিরেছিলেন অন্য ক্লাবের মাস্টারমাইন্ড হয়ে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরাজিত হয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। ঘরের ছেলেরা জয় পেয়েছে বটে। তবে চেলসির তাতে অবদান সামান্যই। বেনফিকার মিডফিল্ডার রিচার্ড রায়োসের আত্মঘাতী গোলে হেরেছে মরিনহোর শীষ্যরা। নতুবা স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ থেকে নিদেনপক্ষে একটি পয়েন্ট নিয়েই ফেরার কথা বেনফিকার।
তবে ম্যাচ ছাপিয়ে, মরিনহোর ঘরে ফেরাটাই বরং হেডলাইন। তাকে ঘিরেই যেন আবেগের আবহ ছেয়ে গিয়েছিল পুরো লন্ডন জুড়ে। সম্মান জানানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ হাতছাড়া করেনি গোটা স্টেডিয়ামে। ঘরের মাঠেও চলেছে প্রতিপক্ষ ম্যানেজারকে নিয়ে স্লোগান, এমন ভাগ্য হয়েছে কার কবে?












