মিরাজের মান বাঁচানো ইনিংস!

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ খেলবেন আর রান পাবেন না, তাই কি হয়? প্রথম ওয়ানডেতেও রান পেলেন, ৬০ রানের ইনিংস খেলে দলকে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নিয়ে এলেন, সেই সঙ্গে হয়ে গেলেন একদিনের ক্রিকেটে আফগানদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ খেলবেন আর রান পাবেন না, তাই কি হয়? প্রথম ওয়ানডেতেও রান পেলেন, ৬০ রানের ইনিংস খেলে দলকে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নিয়ে এলেন, সেই সঙ্গে হয়ে গেলেন একদিনের ক্রিকেটে আফগানদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক।

ব্যাট হাতে যখন ক্রিজে নামলেন, স্কোরবোর্ডে তখন তিন উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান। চরম চাপে হাল ধরার কৌশল মিরাজের আগে থেকেই জানা। তার সদ্ব্যবহার করলেন আজও।

কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ইনিংস বিল্ড-আপে মনোনিবেশ করলেন। আস্থা রাখলেন সিঙ্গেলস আর ডাবলসের ওপরই। ডট বলের শিকল যখন জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল, চাপ কমানোর জন্য বাউন্ডারিও আদায় করে নিয়েছেন।

চাপ সামলানোর পথে সফরসঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়কে। দুজনে মিলে গড়েছেন ১৪২ বলে ১০১ রানের জুটি, যা বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি জুগিয়েছে।

শেষটাতে অবশ্য রশিদ খানের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে থামতে হয়েছে। ৮৭ বলে ৬০ রানের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন এক চার আর এক ছয়। স্ট্রাইক রেটটা ছিল প্রায় ৬৯। যদিও আরেকটু ভালোভাবে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলাটা উচিত ছিল তার। আধুনিক ওয়ানডের হিসেবে ডট বলের সংখ্যাটা একটু দৃষ্টিকটুই বটে।

তবে এই ইনিংস এক অর্থে মন্দের ভালো বলা যায়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যে দলের মান বাঁচিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে তুলেছে ২২১ রানের লড়াকু এক পুঁজি।

তবে এখানেই শেষ নয়, নিজের ব্যক্তিগত মাইলফলকেও মিরাজের এই ইনিংস যোগ করেছে অন্য মাত্রা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মুকুট এখন তাঁর মাথায়। ১২ ইনিংসে ৪৭১ রান করে টপকে গেছেন মুশফিকুর রহিমকে।

বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব এখন মিরাজের কাঁধেই, সেই সঙ্গে মিডল অর্ডারেও সামলেছেন গুরুদায়িত্ব। দলের বিপদে হাল ধরছেন, পথ দেখাচ্ছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে। তবে আধুনিক ক্রিকেটের মঞ্চে ব্যাটিংয়ে আরেকটু তৎপর না হলেই যে নয়।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link