এক স্মিত হাসি নিয়ে লিওনেল মেসি বসে আছেন গ্যালারিতে। তাকে ছাড়া আর্জেন্টিনা খেলতে নেমেছিল ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে। ভেনেজুয়েলার রক্ষণ চিড়ে গোল আদায় করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। খানিকটা দুশ্চিন্তার উদ্রেক তা ঘটাতেই পারে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শেষ। লাতিন আমেরিকার সেরা দল হিসেবেই ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। এরপরই প্রথম প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি শহরে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হয় আলবিসেলেস্তারা। নিজ মহাদেশের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা সবার উপরে থাকলেও, ভেনেজুয়েলা ছিল আট নম্বর দল। অর্থাৎ তারা খেলবে না আগামী বিশ্বকাপ।
এমন একটা দলের বিপক্ষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের দাপট দেখানোর কথা ছিল বটে। মাঠের খেলায় সেই দাপট থাকলেও, স্কোরলাইনে আধিপত্য অনুপস্থিত। অবশ্য সে জন্য কৃতীত্ব পেতে পারেন ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষক হোসে কন্ত্রেরাস। আর্জেন্টিনা মোট ১১টি শট চালিয়েছে ভেনেজুয়েলার গোলবারের উদ্দেশ্যে। যার দশটি শটই ঠেকিয়ে দিয়েছেন কন্ত্রেরাস।

এমনকি ম্যাচে হওয়া একমাত্র গোলটিও প্রায় ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষক। জিওভানি লো সেলসোর বা-পায়ের কন্ত্রেরাসের পায়ে লেগেও গোলবার অভিমুখে ছুটে গেছে। তাতে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথা আর খোলা ছিল না, ভেনেজুয়েলার গোলরক্ষকের পক্ষে। এরপরও ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, লাউতারো মার্টিনেজের পরপর দুইটি, ক্লোজ রেঞ্জ শট ঠেকিয়ে দিয়েছেন কন্ত্রেরাস। নতুবা গোল ব্যবধান নিঃসন্দেহে বাড়তে পারত আর্জেন্টিনার।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা নিজেদের ফিনিশিং দূর্বলতা ও ভাগ্যের অসহযোগীতায় সমতায় ফিরতে পারেনি। সেটাও বরং আর্জেন্টিনার জন্য দুশ্চিন্তার। তাদের রক্ষণ চিড়ে যে বেশ ক’বারই হুমকি হয়ে দাড়িয়েছিল ভেনেজুয়েলা। অতএব সেদিকটা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনিকে।
যদিও ম্যাচটা ছিল এক প্রীতি ম্যাচ। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটিকে একটা লেসন হিসেবে ধরা যেতে পারে। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের যত ভুলচুক আছে সব শুধরে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। সেজন্যই হয়ত দুশ্চিন্তার চাইতেও বেশ স্বস্তিতে থাকার কথা স্কালোনির। তিনি তো জানেন, বিশ্বকাপে তার হয়ে মাঠে নামবেন ফুটবলের দেবদূত।












