গুরু-শিষ্যের কৌশলযুদ্ধ!

ড্যারেন সামি এবং ফিল সিমন্স—সময়ের অদ্ভুত খেলায় মিলেছেন একই সুরে। যে দু’জন একসময় একই স্বপ্নে রঙ ছড়িয়েছিলেন, আজ সেই দু’জনই দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রান্তে, দুই বিপরীত ডাগআউটে।

ড্যারেন সামি এবং ফিল সিমন্স—সময়ের অদ্ভুত খেলায় মিলেছেন একই সুরে। যে দু’জন একসময় একই স্বপ্নে রঙ ছড়িয়েছিলেন, আজ সেই দু’জনই দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রান্তে, দুই বিপরীত ডাগআউটে। একসঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার সুখস্মৃতি পেছনে ফেলে, এখন একে অপরের বিপক্ষে কৌশলের লড়াই চালাচ্ছেন দুজনেই।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান হেড কোচ ফিল সিমন্স ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই ঐতিহাসিক ২০১৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ। আর সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন ড্যারেন সামি। ক্যারিবীয় ক্রিকেটে যার নামটাই নেতৃত্বের আরেক সংজ্ঞা। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে যখন সামির নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে, তখন ডাগআউটের পেছনে জয়ের হাসি হেসেছেন সিমন্সও।

তবে সময়ের রদবদলে ইতিহাস লিখছে অন্য গল্প। ২০২৫ সালে এসে তারা একে অপরের বিপরীতে। সিমন্স এখন বাংলাদেশের কোচ, আর সামি কোচিং করাচ্ছেন নিজের প্রিয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে দুই প্রান্তে দুজন থাকলেও লক্ষ্যটা এখনও সেই একই জায়গায়।

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে সিমন্সের কাজ দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, আধুনিক ক্রিকেটের সাথে দলকে মানিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে সামির লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফিরিয়ে আনা সেই পুরনো আগুনে—যে আগুনে তারা একসময় বিশ্বের সেরা হয়েছিল।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে দুজনেই সাজাচ্ছেন রণকৌশল। যার প্রথমটিতে অবশ্য জয়ের হাসি সিমন্সই হেসেছেন। তবে দু’জনই একে অপরকে ভীষণ ভালোভাবে চেনেন। কে কিভাবে চিন্তা করেন, কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তার সবই জানা।

তাই এই লড়াই কেবল দল বনাম দল নয়, বরং কোচ বনাম কোচের কৌশলযুদ্ধও। একসময় যাঁরা একসঙ্গে বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, আজ তাঁরা আলাদা পতাকার নিচে লড়ছেন জয়ের জন্য।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link