আবারও সমালোচনার মুখে লিটন দাস। আর কারণটা আগের মতোই—গণমাধ্যমের সামনে বেফাঁস মন্তব্য। চট্টগ্রাম টি–টোয়েন্টিতে হারের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে সতীর্থ শামীম হোসেন পাটোয়ারির ব্যাটিং নিয়ে প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেন তিনি। ফলে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর পরিণতিবোধ নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
প্রথম টি–টোয়েন্টিতে ১৬ রানে হারের পর ম্যাচসেরা পুরস্কার মঞ্চে লিটন বলেন, ‘শামিম হোসেনের ব্যাটিং নিয়ে আমি খুব হতাশ। তাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে। আপনি সব সময় ক্রিজে এসে শুধু উপভোগ করতে পারবেন না, দায়িত্ব নিতে হবে।’
এই কথাটাই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। দলের ব্যর্থতা যখন সামষ্টিক, তখন নির্দিষ্ট একজনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কতটা পেশাদারসুলভ—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটপাড়ায়। শামিম হোসেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আসলেই ভালো নয়। শেষ পাঁচ ম্যাচে তিনবার শূন্য, চট্টগ্রামে করেছেন ১ রান, কেবল আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৩৩ রানের ইনিংস ছিল কিছুটা উজ্জ্বল। তবে মিডল অর্ডারে চার বছর খেলা এক ক্রিকেটারের কাছ থেকে ইনিংসকে স্থিতি দেওয়ার প্রত্যাশা অযৌক্তিক নয়। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার দায়িত্ব শামিমেরও ছিল। কিন্তু পুল মারতে গিয়ে আউট হওয়ায় ক্ষোভ জমেছিল অধিনায়কের।

তবু যেভাবে, যে মঞ্চে এসে লিটন তা বলেছেন—সেটি নিয়েই আপত্তি। লাইভ টেলিকাস্টে চাইলেই এভাবে বলা যায় না। অধিনায়ক হিসেবে মিডিয়ার সামনে সতীর্থদের আগলে রাখাটাই যেখানে দায়িত্বের অংশ, সেখানে লিটন উল্টো প্রকাশ্যে নাম বলায় সমালোচনায় পড়েছেন। বিশেষ করে, নিজেও তো সেদিন ব্যর্থ ছিলেন—৮ বলে মাত্র ৫ রান। পুরো দলের ছয় ব্যাটার মিলে করেছিলেন ৬২ রান। তবু লিটনের মন্তব্যে দায় যেন একাই শামীমের কাঁধে চাপানো হলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন লিটনকে নিয়েই চলছে তর্ক-বিতর্ক। এশিয়া কাপে অধিনায়ক হিসেবে প্রশংসা কুড়ালেও চট্টগ্রামের এই মন্তব্যে অনেকে অবাক। তানজিম সাকিবও পরে প্রেস কনফারেন্সে মিডল অর্ডারের দায়িত্ববোধের কথা বলেছেন। অনেকে ভাবছেন, হয়তো এটি দলের ভেতরের কৌশল—সবাইকে একসঙ্গে দায়বদ্ধ করতে চাওয়া।
তবু সমালোচকরা মনে করছেন, ব্যক্তিকে সরাসরি দোষারোপ করা পরিণত অধিনায়কের কাজ নয়। লিটন হয়তো ভুলে গেছেন, বিপিএলে একসময় তাঁরই কোচ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, “লিটনের মাথায় কিছু নেই”—যা শুনে নিজেও বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। এখন সেই একই অভিজ্ঞতা বোধহয় পেলেন শামিম।

ঘটনার পর শামিম ইনস্টাগ্রামে লিটনকে আনফলো করেছেন—যা সম্পর্কের টানাপোড়েনের দিকে ইঙ্গিত করছে। তবে সমালোচনার মধ্যেও বাস্তবতা রয়ে গেছে—শামিমের নিজেকে আরও মেলে ধরা দরকার। শোনা কথাগুলো যদি আত্মশুদ্ধির অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে, তাহলেই হয়তো এই বিতর্কের শেষটা হবে ইতিবাচক।










