স্রেফ ৩১ শতাংশ রান নিতে পেরেছেন জাকের-হৃদয়রা!

বেশি ম্যাচ খেলার বিষয়টিও কৌশলে যে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোড়ায় গলদ রেখে, মগডালের পাখির বাসা নিয়ে উচ্ছ্বাস বাংলাদেশের।

চলতি বছরে টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। মোট ২৬ ম্যাচ ইতোমধ্যে খেলে ফেলেছে। যার মধ্যে ১২টি ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ দল। আর এই দায়ভার যদি মিডল অর্ডারের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাতে বরং দোষের কিছু নাই।

চলতি বছরে বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি সিরিজ হেরেছে দুইটি। একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে, আরেকটি ঘরের মাঠে। মাঝে অবশ্য এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে ওঠার সুযোগও করেছে হাতছাড়া। আর এমন পরিস্থিতির পেছনের কারণ অধিকাংশ সময়েই দলের মিডল অর্ডার।

২৬ টি-টোয়েন্টির মধ্যে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২০৫ রান একবার স্কোরবোর্ডে তুলেছে। আর সর্বনিম্ন সংগ্রহ ছিল ১০৪ রান। তবে সর্বমোট ৩৮৬৯ রান জড়ো করেছে বাংলাদেশ এই ২৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে। দু:খজনক হলেও সত্য, এই বিপুল রানের পেছনের কারিগর টপ অর্ডার ব্যাটাররা।

এক থেকে তিন এই পজিশনে ব্যাট করেছেন মোট সাতজন ব্যাটার। যাদের সম্মিলিত সংগ্রহ ১৯৫৮ রান। অর্থাৎ দলের সংগ্রহের প্রায় ৫০ শতাংশ রানই এসেছে টপ অর্ডার ব্যাটারদের হাত ধরে। অন্যদিকে দলের ৪ থেকে ৬ এই তিন পজিশনে ব্যাট করেছেন মোট আটজন ব্যাটার। এদের সম্মিলিত রানের সংখ্যা, ১২০৭। অর্থাৎ স্রেফ ৩১ শতাংশ রান নিতে পেরেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটাররা।

এর মধ্যে ১৮ ইনিংসে সর্বাধিক ৩৯০ রান করেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটারদের মধ্যে। তবে দৃষ্টিকটু ছিল তার স্ট্রাইকরেট। স্রেফ ১১৪.৭০ স্ট্রাইকরেটে রান তুলেছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে বড্ড বেমানান স্ট্রাইকরেট। রীতিমত ওয়ানডে ধাচে ব্যাটিং করেছেন তাওহীদ হৃদয়।

আর সেখান থেকেই বরং বাংলাদেশের রান তাড়া কিংবা রান সংগ্রহ কচ্ছপের গতি ধারণ করে। এছাড়া, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারিরা প্রয়োজনের মুহূর্তেই ব্যর্থ হয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে এশিয়া কাপের ফাইনাল হয়েছে হাতছাড়া। ঘরের মাঠে ১৫০ রানও বাংলাদেশ করতে পারেনি তাড়া।

মিডল অর্ডারের এই দুর্দশার সমাপ্তি কোথায়? সেটা বরং অজানা। তবে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো বুলি আওড়ায় একটা পর্দা দিয়ে আড়াল ঠিকই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এর মাঝেও যে আছে শুভঙ্করের ফাঁকি। বেশি ম্যাচ খেলার বিষয়টিও কৌশলে যে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোড়ায় গলদ রেখে, মগডালের পাখির বাসা নিয়ে উচ্ছ্বাস বাংলাদেশের।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link