ডি ককের পাশে ওপেনিংয়ে সেই শিশুটি!

গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি। বারো বছর পর, ২০২৫ সালে, সেই একই লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াস—এবার জাতীয় দলের জার্সিতে, নিজের আইডল ডি ককের সঙ্গেই নামলেন ইনিংস ওপেন করতে, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে।

ফ্যান বয় থেকে সতীর্থ – এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক চিত্রনাট্য। স্বপ্নকে সত্যি করলেন লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াস। ওপেন করতে নামলেন শৈশবের সেই সুপার হিরোর সাথে।

সময়টা ২০১৩ সাল। সাত বছরের এক ছোট্ট বালক প্রিটোরিয়াস। দক্ষিণ আফ্রিকার এক উঠতি ক্রিকেটপ্রেমী, যার চোখে স্বপ্নের নায়ক ছিলেন কুইন্টন ডি কক। একদিন সেই প্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে ছবি তুলেছিল সে—একটা স্মৃতি, যা হয়তো তখন তার কাছে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত।

কিন্তু গল্পটা সেখানেই শেষ হয়নি। বারো বছর পর, ২০২৫ সালে, সেই একই লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াস—এবার জাতীয় দলের জার্সিতে, নিজের আইডল ডি ককের সঙ্গেই নামলেন ইনিংস ওপেন করতে, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে।

ওয়ানডে অভিষেকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন প্রিটোরিয়াস। ডি ককের সঙ্গে মিলে গড়েন ৯৮ রানের ঝলমলে ওপেনিং জুটি। ককের সাথে প্রিটোরিয়াস – দু’জনেই পেয়ে যান হাফ সেঞ্চুরি।

শাহিন আফ্রিদির বিপক্ষে স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে নিজের শুরুটা জানান দেন ডি কক। আবরার আহমেদের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে পঞ্চাশে পৌঁছে দেন। প্রিটোরিয়াসও ছিলেন দারুণ ছন্দে—দেখেশুনে খেলছিলেন, ফাঁক বের করছিলেন, মাঝে মাঝে ঝড় তুলছিলেন। ডি কক যখন ২০ তম ওভারে নিজের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন, ততক্ষণে প্রিটোরিয়াস ৫৭ রানে ফিরে গেছেন সাজঘরে।

তাঁদের জুটি ভাঙে অসাধারণ এক ফিল্ডিংয়ে। সায়িম আইয়ুবের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে টপ এজ হয়। পয়েন্টের পেছনে দৌড়ে গিয়ে মোহাম্মদ নওয়াজ ডাইভ দিয়ে ধরেন চমকপ্রদ সেই ক্যাচ। শেষ হয় প্রিটোরিয়াসের স্বপ্নময় অভিষেক ইনিংস, ৬০ বল খেলে থামেন।

তবু এ গল্প কেবল এক ইনিংসের নয়। এটা এক শিশুর স্বপ্ন, যেটা পূরণ হয়েছে ১১ বছর পর। এমন রূপকথা ক্রিকেট খুব কমই দেখেছে। একই ফ্রেমে স্বপ্ন আর বাস্তবতা—লুয়ান-ড্রি প্রিটোরিয়াস আর কুইন্টন ডি কক। ক্রিকেটে এমন গল্পই তো অমর হয়ে থাকে!

Share via
Copy link