পারফর্মার আর্শদ্বীপ উপেক্ষিত কেন?

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আর্শদ্বীপ সিং। অথচ তিনিই কিনা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। তাই তো অনেকের মতে, বেঞ্চে বসিয়ে অপচয় করা হয় আর্শদ্বীপের প্রতিভা। তবে এমনটা কেন করা হয়?

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি আর্শদ্বীপ সিং। অথচ তিনিই কিনা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। তাই তো অনেকের মতে, বেঞ্চে বসিয়ে অপচয় করা হয় আর্শদ্বীপের প্রতিভা। তবে এমনটা কেন করা হয়?

ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মরকেল এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য খোলাসা করেছেন সবকিছু। তিনি বলেন, ‘এটা সহজ নয়, দলে জায়গা না পাওয়া বা নির্বাচনে হতাশা সবসময়ই থাকবে, কিন্তু অনেক সময় এগুলো খেলোয়াড়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের কাজ হচ্ছে ওদের কঠোর পরিশ্রম করতে বলা, প্রস্তুত থাকতে বলা, যখনই সুযোগ আসবে সেটা কাজে লাগানোর জন্য।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই ভারতের সমস্ত পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আর আর্শদ্বীপের বেঞ্চে থাকারও একটা কারণ অবশ্য এটা। এ নিয়ে মর্কেল বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে ম্যাচ খুব কম, তাই আমাদের দেখতে হবে কে কীভাবে চাপের মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া দেখায়। নইলে মাঠে নেমে সেটা অজানা থেকে যাবে। তাই কিছু ম্যাচ আমরা খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করার জন্য খেলছি, আবার একই সঙ্গে ম্যাচ জেতার মানসিকতাও ধরে রাখছি।’

নতুন বলে আর্শদ্বীপ প্রতিপক্ষের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলার সক্ষমতা রাখেন। এমনকি ডেথ ওভারে তাঁর কার্যক্ষমতা সবারই জানা। চাপের সময়ে নিজের উপর বিশ্বাস রাখা, দলের প্রয়োজনে উইকেট এনে দেওয়া, সব গুণেই বিশেষায়িত তিনি।

তবুও টিম কম্বিনেশনের মারপ্যাচে সুযোগ মেলে না আর্শদ্বীপের। যখনই সুযোগ আসে, তখনই নিজের সেরাটা দেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েই ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন তিনি। ৩৫ রানে তিন উইকেট তুলে নিশ্চিত করেছিলেন দলের জয়। এই সিরিজে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। শেষ খেলেছিলেন এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে। সেখানেও নিজের সক্ষমতার ছাপ দেখিয়েছিলেন আর্শদ্বীপ।

তবুও বারবার উপেক্ষিত হতে হয় তাঁকে। ভাগ্যের দোষে সুযোগ মেলে না ঠিকঠাক। তাই তো সেরা পারফর্মার হয়েও আর্শদ্বীপ নিজেকে অভাগা ভাবতেই পারেন।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link