জামাল ভুঁইয়া, বহু প্রত্যাশার সেই ‘বড় ভাই’

নিরবে, নিজের মত করে এক সুস্থ সংস্কৃতির বীজ বপন করে যাচ্ছেন জামাল ভুঁইয়া। তাদের হৃদয়ে যে সম্মানের স্থান নিজের জন্য তৈরি করে যাচ্ছেন জামাল- সে সম্মানের সিংহাসনের তিনি একচ্ছত্র অধিপতি।

নিরবে, নিজের মত করে এক সুস্থ সংস্কৃতির বীজ বপন করে যাচ্ছেন জামাল ভুঁইয়া। আগেরবার জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুলের কাঁধে হাত রেখে স্বাগতম জানিয়েছিলেন জামাল ভূঁইয়া। এদফা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে যুক্ত হয়েছেন আরও দুইজন তরুণ ফুটবলার। একজন বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা মোর্শেদ আলী ও ইংল্যান্ড থেকে আসা কিউবা মিচেল। এদফাও জামাল ভরসার হাত রেখেছেন এই দুই তরুণের উপর।

এই তল্লাটে এখন ফুটবলের গণজোয়ার। চোখের পলকে শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ম্যাচের সমস্ত টিকিট। কিন্তু দিন তো এমন ছিল না। শূন্য গ্যালারির আর্তনাদ শোনা যেত, জামালরা শুনতে পেতেন। তেমন এক মুহূর্তে ভিনদেশের সকল সুযোগ-সুবিধার মায়া মাড়িয়ে জামাল এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হতে।

ভীষণ চড়াই-উৎরাই সহ্য করতে হয়েছে তাকে। দলের তখনকার সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে হয়ত তার ভীষণ কষ্ট হয়েছিল। তিনি হয়ত অভাব বোধ করেছিলেন এক বড় ভাইয়ের, যে ভরসা হাতে পিঠ চাপড়ে বলবে,’আরেহ বোকা তোকে দিয়ে হবে।’

আমাদের জীবনে এমনটা প্রায়শই হয়। একজন বড় ভাই কিংবা বোনের অভাব সবাই বোধকরি জীবনের চলার পথে। জামালও করেছেন হয়ত। আর তাইতো তিনি জাতীয় দলের সেই বড় ভাই হওয়ার সুযোগটাকে হেলায় হারাতে দিচ্ছেন না। তার জীবনে যে বড় ভাইয়ের অভাব ছিল, সেই অভাব যেন জায়ান, কিউবাদের ক্যারিয়ারে না হয়- সে জন্য তিনি ভরসার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে ঢাল হয়ে দাড়াচ্ছেন।

এভাবেই তো গড়ে উঠবে সংস্কৃতি। আজকের ফাহমিদুল, মোর্শেদরাও তো একদিন বড় হবেন। তখন জামালের মত করেই দু’হাত প্রসারিত করে দেবেন অনুজদের জন্য। অনুজদের ভরসার উষ্ণতা অনুভব করাবেন। আশ্রয়ের চাদরে আগলে রাখবেন অনুজদের। এই যে এক সুস্থ সংস্কৃতির সঞ্চার ঘটাচ্ছেন জামাল, এটাও কি দলনেতার পরিচয় নয়?

এমনকি এক মস্তবড় হৃদয় নিয়ে তিনি প্রত্যেকেই উষ্ণ আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এমনকি জাতীয় দলে এখন তিনি আর নিয়মিত শুরুর একাদশে জায়গা পান না। তার পজিশনে আসা তরুণদের তবুও তিনি ঈর্ষা করেন না। বরং তাদেরকে দলের সাথে মিশে যেতে নিজে থেকেই সাহায্য করে যাচ্ছেন জামাল ভুঁইয়া। দলনেতা তো এমনই হয়।

অবশ্যই তিনি দলনেতা। তার সময় ফুরিয়ে যাবে, তিনি জাতীয় দল থেকে দূরে সরে যাবেন। কিন্তু তখনও তিনি জায়ান, ফাহমিদুলদের কাছে নেতা হিসেবেই রয়ে যাবেন। তাদের হৃদয়ে যে সম্মানের স্থান নিজের জন্য তৈরি করে যাচ্ছেন জামাল- সে সম্মানের সিংহাসনের তিনি একচ্ছত্র অধিপতি।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link