শান্ত যেন বাংলাদেশের ‘ব্র্যাডম্যান’

না, কোন ভাবেই শান্তকে ব্র্যাডম্যানের সমকক্ষ প্রমাণ করা নয়, স্রেফ বোঝানো যে শান্ত টেস্টে ঠিক কতটা কার্যকর।

১৩টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্যার ডন ব্র্যাডমানের সাথে সংখ্যার তুলনায় জায়গা করে নিয়েছেন শান্ত।  টেস্টের এই ১৩ ইনিংসের মধ্যে আটটিকেই শতকে পরিণত করেছেন বাংলাদেশের বা-হাতি এই ব্যাটার। অর্ধশতককে, শতকের রুপান্তরিত করার ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের এখন তৃতীয় সেরা ব্যাটার বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

প্রায়শই নাজমুল হোসেন শান্তকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার ব্যাটিং নিয়ে হয় কাঁটাছেড়া। সাদা বলে তার পারফরমেন্স যার পেছনে কাজ করে প্রভাবক হিসেবে। সাদা বলে তিনি প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন না- সে কারণেই তাকে নিয়ে হয় সমালোচনা। তবে টেস্ট ক্রিকেটে শান্ত বাংলাদেশের এক বিশাল বড় প্রাপ্তির জায়গা।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে প্রাপ্তির খাতায় তেমন কিছু নেই। তবুও সেই না থাকা অর্জনের বুকে নিজস্ব আলোর বিকিরণ করে যাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। স্রেফ ৩৮ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে তিনি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ শতক হাঁকানো ব্যাটার বনে গেছেন। বয়সটা তার কেবলই পেরিয়েছে ২৭ এর গণ্ডি। হাতে সময় যথেষ্ট বাকি। শতকের সংখ্যা যে আটে থেমে থাকবে না তা নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায়।

সেটার কারণ অবশ্য, তার পঞ্চাশকে শতকে রুপান্তরিত করার দক্ষতা। ৬১ শতাংশ পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসকে শান্ত শতকে রুপান্তরিত করেছেন। তার উপরে রয়েছেন ক্যারিবিয়ান জর্জ হেডলি, ৬৬.৬৬ শতাংশ পঞ্চাশকে একশ বানিয়েছেন। এছাড়া এই তালিকায় সবার উপরে অবস্থান করছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ৬৯.০৫ শতাংশ পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসকে ব্র্যাডম্যান শতকে পরিণত করেছেন।

না, কোন ভাবেই শান্তকে ব্র্যাডম্যানের সমকক্ষ প্রমাণ করা নয়, স্রেফ বোঝানো যে শান্ত টেস্টে ঠিক কতটা কার্যকর। বিশ্ব মানচিত্র থেকে দেশের পটভূমিতেও শান্তর কার্যকারিতা প্রমাণ করা সম্ভব। বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ ১৩টি শতক এসেছে মুমিনুলের ব্যাট থেকে। মুমিনুল আরও ২৩ ইনিংসে আউট হয়েছেন পঞ্চাশ রানের মাইলফলক পেরিয়ে।

অতএব মুমিনুলের পঞ্চাশকে শতকে রুপান্তরিত করার সক্ষমতা ৫৬.৫২। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শতক হাঁকানো মুশফিকুর রহিম ৪৪.৪৪ শতাংশ হারে পঞ্চাশকে শতকে পরিণত করতে পেরেছেন। অতএব, শান্তর সক্ষমতা ঠিক কতটুকু তা আর না বলে দিলেও চলছে। সুতরাং শান্তর সাদা বলের ফরম্যাট দিয়ে অন্তত তার লাল বলের সক্ষমতা বিচার করা সমীচিন নয়। তাকে বরং টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহী করা গেলেই তা বাংলাদেশের জন্য হবে মঙ্গল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link