ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বিতর্ক থাকবেই। সেটা যে পর্যায়েই খেলাই হোক না কেন। কাতারের দোহায় এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সের ম্যাচেও সেই বিরোধ উঁকি দিল। এবার সেই বিরোধের সূত্রপাত একটা ক্যাচকে কেন্দ্র করে। যেটার মধ্যস্ততা করেন বাংলাদেশি থার্ড আম্পায়ার মোর্শেদ আলী খান সুমন।
ওপেনার মাজ সাদাকাত দারুণ ছন্দে রান তাড়া করছিলেন। এমন সময় বড় সুযোগ পেয়েছিল ভারত। বাউন্ডারি লাইনের কাছে নেহাল ওয়াধেরা আর নামান ধীরের মিলিত প্রচেষ্টায় ক্যাচ হল। ভারতীয়রা উইকেট উদযাপন করছিল, ব্যাটারও হেঁটে মাঠ ছাড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু, টেলিভিশন রিপ্লে চলতেই থাকল, আর তৃতীয় আম্পায়ার দীর্ঘক্ষণ পর্যবেক্ষণ শেষে রায় দিলেন—নট আউট।
তখন ভারতীয় শিবিরের হতাশা চরমে ওঠে। অধিনায়ক জিতেশ শর্মাসহ সবাই অবাক হয়ে যায়—কীভাবে এটা আউট নয়? অনেকবার তাঁরা আম্পায়ারের সাথে কথা বলেন, তাতেও কোনো লাভ হয়নি। আরও বিস্ময়ের বিষয়, আম্পায়ার কোনো বাউন্ডারিও দিলেন না, স্রেফ একটা ডট বল। মানে, কোনো পক্ষই উপকৃত হল না।

তখনই শুরু হয় নিয়ম নিয়ে আলোচনা। এমসিসির দেওয়া নীতিমালা বলছে নট আউটের সিদ্ধান্ত সঠিক। ১৯.৫.২.২ ধারা বলছে, বল বাউন্ডারি লাইন থেকে ফেরানোর পর ক্যাচ ধরার আগেই ফিল্ডারকে বাউন্ডারি লাইনের ভেতর চলে আসতে হবে। নামান ধীর যখন ক্যাচটা ধরেন তখনও বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ছিলেন নেহাল ওয়াধেরা। বল ফিরিয়ে দিয়ে নেহাল মাঠের বাইরে গেছেন, এটাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন ক্যাচটা ধরা হয়, তখন তাঁর ফিরে আসা দরকার ছিল। নতুন নিয়ম সেটাই বলছে। এখানে আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।
কোনো ফিল্ডার বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে এসে বল স্পর্শ করতে পারে। কিন্তু একবার বল স্পর্শের পর যদি সে মাটিতে পড়ে, এবং মূল মাঠে ফিরে আসার আগেই সেই ক্যাচ ধরা হয়, সেক্ষেত্রে সেটা ক্যাচ হবে না। হবে ডেড বল। এই জন্যই সেই ডেলিভারিতে ছক্কাও দেওয়া হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের পর ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত। তখন পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৪ রান, হাতে ছিল ১১ ওভার। সাদাকাত এরই মধ্যে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলেছিলেন, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৭৯ রানে দলকে জিতিয়ে সেমিফাইনালে তুলেছেন। ভারতের জন্য দিনটা ছিল সব দিক থেকেই হতাশার—ব্যাটিং ব্যর্থতা, বোলিং ছন্নছাড়া, আর ফিল্ডিংয়ে যোগ হয়েছে বিতর্ক। মাত্র ১৩.২ ওভারেই ১৩৭ রানের লক্ষ্য টপকে যায় পাকিস্তান। এখন টুর্নামেন্টের বাঁচা–মরার লড়াইয়ে নামার আগে অনেক কিছুই ভাবতে হবে ভারতকে।











