মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন, পুরোটাই মুশফিকময়

মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন কেটেছে মুশফিক বন্দনায়। পুরোটা দিন জুড়েই মুশফিক আন্দোলিত করেছেন ব্যাটের মূর্ছনায়।

এক মহীরুহুর শততম টেস্ট। দিনটা মুশফিকুর রহিমের ষোল আনা। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন কেটেছে মুশফিক বন্দনায়। পুরোটা দিন জুড়েই মুশফিক আন্দোলিত করেছেন ব্যাটের মূর্ছনায়। মুশফিকের রেকর্ড গড়া দিনে তাই বাংলাদেশ পড়েনি খুব একটা বিপাকে।

টসে জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বহুদিনের বাদে মিরপুরের উইকেটটা একটু হলেও ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু সেই উইকেটে দাঁড়িয়ে সিলেট টেস্টের স্টার পারফরমার দুই ওপেনার, বেশিদূর এগোতে পারলেন না। একটা পর্যায়ের মৃদু বিপর্যয়ের মত পরিস্থিতি।

৯৫ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারই সাজঘরে। বাইশ গজে তখন মুশফিকুর রহিম এসে যুক্ত হলেন, আগে থেকে বিপর্যয়ের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে মুমিনুল হক। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটার, এদফা দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিলেন। গুটি গুটি পায়ে দৌড়ে গড়ে ফেলেন এক বড়সড় জুটি।

যদিও খাঁদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার সময় বাংলাদেশকে বেগ পোহাতে হয়েছে রান জোগাতে। বাউন্ডারির স্রোত যে পরিণত হয়েছিল শুকনো নদীতে। তবুও মুশফিক ও মুমিনুল ধরে রাখলেন দলের হাল। দু’জনই থিতু হয়েছেন বাইশ গজে। ১০৭ রানের জুটি গড়ে মুমিনুল আউট হয়েছেন ৬৩ রানে।

কিন্তু মুশফিকুর রহিম এক অবিচ্ছেদ্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন পুরোটা সময় জুড়ে। ৯৯ রানের তিনি অপরাজিত থেকেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। নিজের শততম টেস্টের প্রথম দিনেই তিনি পেয়ে যেতে পারতেন শতকের দেখা। দিনটা তবে হতেই পারত ১০০ তে ১০০। মুশফিকের স্মরণীয় টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ চার উইকেটে ২৯২।

মুশফিক ছাড়াও লিটন দাস থেকেছেন অপরাজিত। সেঞ্চুরি থেকে এক রানে দূরে থাকা মুশফিক পরদিন ফিরবেন আবার, নিজের ১০০ তম টেস্ট ম্যাচকে বর্ণিল রঙে রাঙিয়ে দিতে। তার স্মরণীয় অধ্যায়ের জয়ের অনুচ্ছদেও জুড়ে দিতে প্রস্তুত প্রায় গোটা বাংলাদেশ। অন্তত মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন সে বার্তাই দিচ্ছে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link