‘এটা পুরোটাই একটা বোনাস।’ একজন কাঠমিস্ত্রি থেকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট একাদশ- রুপকথার চাইতে কম কিছু কি? তবে কি অবলীলায় ব্রেন্ডান ডাগেট বলে দিলেন এসবই বোনাস। কি অদ্ভুত!
বনেদী ফরম্যাটের মর্যাদার লড়াই, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট সিরিজ ‘অ্যাশেজ’। এবারের সিরিজের আগের অস্ট্রেলিয়ার শিবিরে ছিল ইনজুরির চোখ রাঙানি। আর তাতেই কপাল খুলেছে ব্রেন্ডান ডাগেটের। জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্সের মত বড় নাম ছিটকে গেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচের একাদশ ইতোমধ্যেই ঘোষণা করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ডের সাথে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে দায়িত্ব সামলাতে হবে ব্রেন্ডান ডাগেটকেও। অথচ ক’দিন আগে অবধিও তিনি বাড়ি বানানোর দায়িত্বতেই ছিল স্বচ্ছন্দ্য।

তবে না, জোর করে ধরে এনে ডাগেটকে খেলানো হচ্ছে না অ্যাশেজ। ডাগেট কখনোই পুরোপুরি ক্রিকেটের উপর ছিলেন না নির্ভরশীল। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের পেশাদার ক্রিকেটার ক্যারিয়ার চালিয়ে গেছেন। পাশাপাশি জীবিকার তাগিদের, ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তিনি কাঠমিস্ত্রীর কাজটাও রপ্ত করেছেন।
স্বপ্নটাকে ঠিকই তিনি মনের মধ্যে লালন করে রেখেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে যখন তার ডাক এসেছিল, তখনই তিনি বলেছিলেন ‘এটা আমার স্বপ্ন।’ তিনি বলেন, ‘আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছিলাম আর কাঠমিস্ত্রীর কাজ করে যাচ্ছিলাম, এবং এটা (অস্ট্রেলিয়া দলে খেলা) ছিল আমার স্বপ্ন।’
প্রতিটা মানুষের হৃদয়েই তো স্বপ্নের কুড়েঘর থাকে। কেউ সেই কুড়েঘরকে বাস্তবের ভূবনে ইস্পাতের ইমারতে পরিণত করে। তাদেরই একজন হতে চেয়েছিলেন ডাগেট। আর তাইতো সর্বশেষ ঘরোয়া মৌসুমেও তিনি ছিলেন দারুণ ছন্দে। চলতি বছরের মার্চে তিনি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়াকে শেফিল্ড জেতান প্রায় একাহাতে। ফাইনালে যে তার একারই শিকার ছিল ১১টি উইকেট।

এরপরই মূলত আবারও আলোচনা এসেছিলেন ব্রেন্ডন ডাগেট। তবে এর আগে ২০১৮ সালে একবার জাতীয় দলে ডাক পড়েছিল তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু সেবার আর অভিষেক ঘটেনি ২৪ বছর বয়সী ডাগেটের। স্বপ্ন ও বাস্তবতার হিসেব আগেই কষে ফেলেছিলেন তিনি। তাইতো দেরীতে হলেও স্বপ্ন এবার পূরণ হচ্ছে তার।
তিনি তো ধরেই নিয়েছিলেন প্রেম থেকে ক্রিকেট খেলে যাবেন, পেশা তার হবে কাঠমিস্ত্রীর। তাইতো তার কাছে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা সুযোগ, জীবনের দেওয়া এক আশ্চর্য ‘বোনাস’। সেই বোনাসের পরিপ্রেক্ষিতে ঠিক কিভাবে জানাতে হবে উচ্ছ্বাস- সেটাও যেন ভুলে গেছেন ব্রেন্ডান ডাগেট।











