টেস্টে রান তাড়ায় দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক এখন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে, তার দৃঢ়তাতেই ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তবুও, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক নন ট্রাভিস হেড। এমনকি সেরা তিনেও নেই তার জায়গা।
টেস্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেঞ্চুরি করেছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক মারকুটে ব্যাটার ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। বরাবরই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ। সে ধারাতেই স্রেফ ৫৪ বলে সাদা পোশাকে সেঞ্চুরি করেছিলেন ম্যাককালাম। তার সেই রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির দিনে প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া।
২০১৬ সালে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে নেমে, ভীষণ চাপের মুখে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছিলেন কিউই এই ব্যাটার। সেদিন চার খানা ছক্কা আর ১৬টি চারে সাজিয়েছিলেন তিনি তার শতকের যাত্রা। দীর্ঘ প্রায় নয় বছরেও ম্যাককালামের সেই রেকর্ডটি কেউ এখন অবধি ভাঙতে পারেননি। তবে ম্যাককালাম অবশ্য দুই জনের যৌথ রেকর্ড টপকে উঠে এসেছিলেন সবার উপরে।

১৯৮৬ সালে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডস স্রেফ ৫৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভিভ দ্রুততম সেঞ্চুরিটা করেছিলেন। প্রায় ২৮ বছর ভিভিয়ান রিচার্ডসের রেকর্ডটি ছিল অক্ষত। পরে ২০১৪ সালে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন পাকিস্তানের মিসবাহ-উল হক।
বেশ ধীরলয়ে ব্যাটিংয়ের জন্য নামডাক ছিল মিসবাহের। ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন মিসবাহ-উল হক। প্রথম ইনিংসে শতরানে পৌঁছাতে তিনি খরচ করেন ১৬৬টি বল। কিন্তু সবাইকে রীতিমত অবাক করে দিয়ে, দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি শতক হাঁকান মাত্র ৫৬ বলে। নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং ধারা থেকে বেড়িয়ে এসে তিনি সেদিন দূর্দান্ত এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন বটে।
কিন্তু তবুও ট্রাভিস হেডের সেঞ্চুরিটি অনন্য এক রেকর্ড হয়ে নিঃসন্দেহে বহুকাল অক্ষত থাকতে চলেছে। কেননা রান তাড়ায় এতটা দ্রুত হওয়া তো মুশকিল। তাছাড়া হেডের এই সেঞ্চুরির স্থানচ্যুতি ঘটলেও হয়ত, ৬৯ বলের এই সেঞ্চুরিকে খাটো করে দেখার বিন্দুমাত্র উপায় থাকবে না। কেননা যে টেস্টের তিন ইনিংসেই রান হয়েছে দেড়শ রানের আশেপাশে। সেই টেস্টে ২০৫ রান তাড়া করে জেতা তো প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন হেড। সুতরাং পরিস্থিতি বিবেচনায় তার এই সেঞ্চুরি অনন্য।












