তেলে-বেগুনে জ্বলছে অজি মিডিয়া, অ্যাশেজের ঝাঁজে কথার ঝঙ্কার

এই উত্তাপের সৃষ্টি অবশ্য করেছিল ইংলিশ গণমাধ্যম। অস্ট্রেলিয়ান দলটিকে তারা 'টিম অফ ড্যাডিস' বলে আখ্যা দিয়েছিল।

‘ডেথ অফ বাজবল’ দ্য অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক এভাবেই করেছে তাদের শিরোনাম। মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়েছে পার্থ টেস্ট। ‘বাজবল’-এর হুঙ্কার দিয়ে ইংল্যান্ড হাজির হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। সন্ধান ছিল প্রথম টেস্ট জয়ের। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজের প্রথম টেস্ট জেতা হয়নি ইংল্যান্ডের।

কিন্তু ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকস জুটিতে ভর দিয়ে অজিদের দম্ভে আঘাত করবে ইংল্যান্ড, তেমন প্রত্যাশা ছিল ইংলিশ শিবিরে। কিন্তু ইংরেজদের বাঘের হুঙ্কার পরিণত হয়েছে বিড়ালের মিউ মিউ আওয়াজে। ট্রাভিস হেডের অতিদানবীয় ইনিংস ইংল্যান্ডকে মাত্র দুই দিনেই দিয়েছে টেস্ট পরাজয়ের স্বাদ।

তাইতো দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান লিখেছিল, ‘ইংল্যান্ড’স ড্যাডি’। এই উত্তাপের সৃষ্টি অবশ্য করেছিল ইংলিশ গণমাধ্যম। অস্ট্রেলিয়ান দলটিকে তারা ‘টিম অফ ড্যাডিস’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। অজিদের দলে বয়স্কদের আধিপত্যে এমন তাচ্ছিল্যের সুর বেজেছিল ইংলিশ মিডিয়ায়। আর সুযোগ পেয়ে সেটারই জবাব দিয়েছে দ্য ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান। বড় বড় করে ছেপেছিল তারা ট্রাভিস হেড ও তার পরিবারের ছবি। হেডলাইনে লেখা, ‘ইংল্যান্ড’স ড্যাডি’।

ইংল্যান্ডের এমন বেহাল দশার পর অবশ্য তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছে আরেক অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক দ্য কুরিয়ার মেইল। তারা শিরোনাম করেছিল, ‘বিঅ্যাওয়ার অ্যাট দ্য গ্যাবা’। ব্রিসবেনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি আয়োজিত হতে চলেছে। গ্যাবায় হবে পিংক বল টেস্ট। ব্রিসবেনের উইকেট আরও বেশি বোলারদের দেবে সহয়তা। ইংল্যান্ডকে যে সেখানেও সামলাতে হবে অজি পেসারদের দাপট।

অ্যাশেজ সিরিজে শুধু মাঠের লড়াই নয়, উত্তাপ ছড়ায় কথার লড়াইও। ইংলিশ মিডিয়া বরাবরই চটিয়ে দিতে পছন্দ করে সবাইকে, হোক তা নিজেদের খেলোয়াড় কিংবা প্রতিপক্ষের গোটা দেশ। আর এর জবাবে ‘বাজবল’ কৌশলের মুখ থুবড়ে পড়ায় এক ছটাক ছেড়ে কথা বলেনি অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াও। এবারের অ্যাশেজে কথার লড়াই যে জমবে বেশ সে আভাস তো মিলেছে প্রথম টেস্টের পরই।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link