বিপিএল নিলামে উদীয়মানদের ঝুলি ভর্তি

জাতীয় দলের হয়ে যাদের এখনও অভিষেক ঘটেনি, এমন অনেক ক্রিকেটারই প্রত্যাশার চাইতে বেশ চড়া মূল্য বাগিয়েছে নিলাম থেকে।

নিলামের সবচেয়ে বড় ফায়দাটা হয় মূলত উদীয়মান খেলোয়াড়দের। যার ব্যতিক্রম ঘটেনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিলামে। জাতীয় দলের হয়ে যাদের এখনও অভিষেক ঘটেনি, এমন অনেক ক্রিকেটারই প্রত্যাশার চাইতে বেশ চড়া মূল্য বাগিয়েছে নিলাম থেকে। এমন খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়েই হাজির হয়েছে খেলা ৭১।

  • হাবিবুর রহমান সোহান (৫০ লাখ) নোয়াখালী এক্সপ্রেস 

প্রত্যাশা ছিল হাবিবুর রহমান সোহানকে ঘিরে হবে নিলামের জম্পেশ লড়াই। কেননা সদ্যই যেকোন পর্যায়ের ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন তিনি টি-টোয়েন্টিতে। এছাড়াও কিছুদিন আগে শেষ হওয়া এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তার স্ট্রাইকরেটও ছিল প্রশংসনীয়, ১৮২.৪০।

ঢাকা ক্যাপিটালস, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স- এই চার দল সোহানকে নিয়ে লড়াই করেছে। শেষ অবধি ৩২ দফা দাম বাড়ার পর, ৫০ লাখ টাকায় তাকে নিজেদের করে নিয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তরুণ এই ব্যাটারের কাছ থেকে আগ্রাসী ও ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ের প্রত্যাশা ফ্রাঞ্চাইজিটির, তেমনটিই জানিয়েছেন দলটি কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।

  • আবদুল গাফফার সাকলাইন (৪৪ লাখ) রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স 

এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে পারফরম করা আবদুল গাফফার সাকলাইনও ছিলেন আলোচনায়। টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে তার উত্থান। নিয়ন্ত্রিত স্লোয়ারে বেশ সিদ্ধহস্ত সাকলাইন, সাথে অস্ত্রের ঝুলিতে রয়েছে কাটারও। রাইজিং স্টার্সে তিনি স্রেফ ৬.৫৭ ইকোনমিতে রান দিয়েছেন, উইকেট নিয়েছেন পাঁচটি। তাছাড়া ব্যাট হাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে জানেন।

ঠিক সে কারণেই নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স ও সিলেট টাইটান্স দর হাঁকানোর যুদ্ধে নেমে পড়ে। বেশ লম্বা সময় ধরে স্নায়ুযুদ্ধ চলমান থাকে। শেষমেশ ৪৪ লাখ টাকায় রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স নিজেদের পতাকাতলে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এতটাও পারিশ্রমিক নিশ্চয়ই সাকলাইন প্রত্যাশা করেননি।

  • রাকিবুল হাসান (৪২ লাখ) রংপুর রাইডার্স

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জেতা বা-হাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান, বেশ লম্বা সময় ধরেই রয়েছেন জাতীয় দলের আশেপাশে। কিন্তু এখনও তার অভিষেক ঘটেনি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি ঠিকই নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন। শুধু খেলছেন বললেও ভুল বলা হয়, পারফরম করে যাছেন রাকিবুল।

সর্বশেষ আসর সহ, দুই আসরে রাকিবুল খেলেছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। ঘরের ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে তাই কার্পণ্য করেনি রংপুর। ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের সাথে নিলাম যুদ্ধ শেষে ৪২ লাখ টাকায় রাকিবুলকে নিজেদের করে নেয় রংপুর রাইডার্স।

  • এসএম মেহরব হাসান (৩৯ লাখ) রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স 

জাতীয় দলে অভিষেক ঘটেনি, এমন বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৩৯ লাখ টাকা দাম পেয়েছেন এসএম মেহরব হাসান অহীন। নোয়াখালী এক্সপ্রেস, সিলেট টাইটান্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স- মোট পাঁচটি ফ্রাঞ্চাইজি নেমে পড়ে মেহরব হাসান অহীনকে নিজেদের দলে নেওয়ার যুদ্ধে। সকল যুদ্ধ শেষে সফল হয় রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স।

মেহরবের জন্য এত আগ্রহ প্রকাশের অন্যতম কারণ এশিয়া কাপ রাইজিং স্টার্সে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে তার ওই বিধ্বংসী ব্যাটিং। ছয় ছক্কায়, ১৮ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকেছিলেন তিনি। বলা বাহুল্য ভারতের ‘এ’ দলে ছিলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বোলাররা। এমন বোলারদের বিপক্ষে দারুণ পারফরমেন্সই মেহরবের চাহিদা বাড়িয়ে বহুগুণে।

  • আকবর আলী (৩৪ লাখ) রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স

অনূর্ধ্ব ১৯ দল বিশ্বকাপ জিতেছিল আকবর আলীর অধীনে। সেই দলের নির্বাচক ছিলেন হান্নান সরকার, যিনি কি-না আবার রয়েছেন রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের ডেরায়। নিজের আস্থাভাজন শীষ্যকে দলে নেওয়ার চেষ্টাই চালিয়েছেন হান্নান। মাঝপথে বাধার সৃষ্টি করেছিল সিলেট টাইটান্স।

এই দুই দলের দর কষাকষি শেষে, ৩৪ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজশাহীতেই গিয়েছেন আকবর আলী। এ যেন গুরু-শীষ্যের পুনর্মিলনি। আকবরের দলনেতা চরিত্র বরাবরই প্রশংসনীয়। কিন্তু ব্যাটিংটা সমান্তরালভাবে উন্নতি ঘটেনি বলেই এখনও তার জন্য খোলেনি জাতীয় দলের দুয়ার। হান্নান সরকারের তত্ত্বাবধানে বদলে যাবে কি আকবরের কপাল?

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link