সাইফ হাসান ‘ফ্লোটার’। বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্ট হয়ত এই ধারণা নিজেদের মস্তিষ্কে গেঁথে নিয়েছে। তাকে স্থির হওয়ার সুযোগই দেওয়া হচ্ছে, এমন চলতে থাকলে সাইফের ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে প্রবল। বাংলাদেশী ব্যাটারদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তো মোটেও নতুন নয়।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সাইফ হাসানের প্রত্যাবর্তনের যাত্রা শুরু। এরপর থেকে তিনটি ভিন্ন পজিশনে ১৫টি ইনিংস খেলে ফেলেছেন সাইফ হাসান। কখনো ওপেনিং, কখনো নম্বর তিন, কখনো আবার নাম্বার চার। কোন একটা ব্যাটিং পজিশনে থিতু হওয়ার সুযোগই মিলছে না সাইফের।
১৫ ইনিংসের মধ্যে চার নম্বরে তিনি ব্যাট করেছেন চার ম্যাচে। তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন তিন ম্যাচে। আর ওপেনিংয়ে নেমেছেন আটবার। এর মধ্যে পুরো এশিয়া কাপে তাকে দেওয়া হয়েছিল ওপেনিংয়ের দায়িত্ব। তারপর বেশ কয়েকবার তার পজিশনে এসেছে বদল।

কোন পজিশনেই সাইফ ব্যর্থ এমনটি বলার সুযোগ নেই। প্রতিটি পজিশনেই তিনি অন্তত একটি করে ফিফটি আদায় করে নিয়েছেন, চার নম্বর পজিশন বাদে। তবে তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমেই। ৮৭ রান করেছেন তিনি চার নম্বরে।
তবে পরিসংখ্যান অন্তত তাকে একজন ওপেনিং ব্যাটার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবে। তবুও বাংলাদেশ দলের সাইফ কেন্দ্রিক পরিকল্পনা স্পষ্ট হওয়া উচিত। তাকে ফ্লোটার বানানোর চেষ্টার ফল পরবর্তীতে হিতে-বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাকে তো একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যদিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে, একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ দল পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটারদের রদবদল করেছে। কিন্তু তাতে ফায়দা হয়নি সেই অর্থে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাটারদের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া বটে। তাছাড়া সাইফও দ্বিধার মধ্যে পড়ে যাচ্ছেন নিশ্চয়ই। তার অনুশীলন প্যাটার্নেও প্রভাব ফেলতে পারে ব্যাটিং পজিশনের এত বদল।

অতএব সাইফকে অন্তত একটি পজিশনে সেট করে ফেলা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তিনি স্পিনার বিপক্ষে নিজের পেশিশক্তির ব্যবহার করতে পারেন যথাযথভাবে, সেহেতু তাকে মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুবা চলমান আস্থার পারদ ক্রমশ নিম্নগামী হতে পারে।











