ভারতের বুকে সাক্ষাত দেবদূত আসবেন, ফুটবল দুনিয়ার সেই এলিয়েন। তা নিয়ে কতশত আয়োজন। কলকাতায় তো রীতিমত আনন্দের গণস্রোত। কিন্তু সেই গণস্রোত ক্ষোভের রুদ্র জলোচ্ছ্বাসে পরিণত হতে সময় লাগেনি। ভাঙচুরের মুখে যুব ভারতী ছাড়তে হয়েছে লিওনেল মেসিকে। এমনটা কি হওয়ার কথা ছিল?
বেশ কয়েক মাস ধরেই, ভারতীয় ফুটবল ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছিল উন্মাদনা। বিশ্বকাপ জয়ী লিওনেল মেসি আসবেন। তা নিয়ে কত জল্পনা-কল্পনা। তাকে এক নজর দেখতে পাওয়ার জন্য কত কল্পনার নকশিকাঁথা বুনন করেছিল কলকাতার পাগলাটে ফুটবল ভক্তরা। কিন্তু যুব ভারতীতে ঘটে গেছে নেক্কারজনক ঘটনা।
গ্যালারির সমস্ত বাঁধা টপকে, দর্শকদের ঢল মূল ময়দানে নেমে গেছে। গ্যালারিতে থাকা চেয়ার ভেঙে-চুড়ে চুরমার। রাগে-ক্ষোভে রীতিমত রণক্ষেত্র বনে যায় কলকাতার যুব ভারতী ক্রিড়াঙ্গন। কিন্তু কেন? সর্বনিম্ন ৩৮০০ রুপিতে টিকিট ক্রয় করেছিলেন দর্শকরা, আর সর্বোচ্চ ১১৮০০ রুপি অবধি খরচ করেছিলেন তারা- স্রেফ মেসিকে নিজ চোখে দেখবেন বলে।

কিন্তু মেসি সল্টলেক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা মাত্রই তাকে ৭০-৮০ জন মানুষের জটলা ঘিরে ধরে। দর্শক গ্যালারি থেকে তখন সমস্মরে সবাই স্লোগান দিতে শুরু করেন, ‘উই ওয়ান্ট মেসি’। জাদুকরকে নিজের চোখে দেখার খায়েশ পূরণ হয়নি কারোই। এক পর্যায়ে বোতল ছুড়ে মারেন দর্শকরা, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে শুরু করলে মাঠ ত্যাগ করেন মেসি। অথচ, মেসির সাথে বলিউড কিংবদন্তি শাহরুখ খানেরও একসাথে যুব ভারতীতে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু সবকিছুই পণ্ড হয়ে যায়। বিক্ষুদ্ধ দর্শকরা এরপর ভাঙচুড়ের ধ্বংসযজ্ঞে নেমে পড়েন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ও চরম বাজে অব্যবস্থাপনার কারণে আয়োজক শতাদ্রু দত্তকে হেফাজতে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনেরও বার্তাও দিয়েছে।
অথচ দৃশ্যপট ভিন্ন হলেও হতে পারত। দর্শকরা প্রাণভরে দেখে নিতে পারতেন ভিনগ্রহ থেকে আগত সেই ফুটবল জাদুকরকে। যাকে সারাটাজীবন টিভির ইঞ্চিটেপে মাপা পর্দায় দেখে যেতে হয়েছে, তাকে নিজের চোখের ৫৭৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় স্মৃতিতে আটকে রাখতে পারতেন। এক মোহনীয় ঘোর নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন কলকাতার ফুটবল ভক্তরা।

‘দ্য গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’- ব্যানারে ভারতের আরও তিনটি শহরে যাবেন লিওনেল মেসি। তার পরবর্তী গন্তব্য হায়দ্রাবাদ, এরপর মুম্বাই হয়ে দিল্লি। তারপর তার উড়াল দেওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু পরিস্থিতি ভীষণ বেগতিক। সফরের মাঝপথেই মেসি ভারত ত্যাগ করলে- অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।











